× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০২:৪৪ এএম

ক্ষুধা লাগলে মেজাজ বিগড়ে যাওয়া কি রোগের ইঙ্গিত? 

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০২:৪৪ এএম

ক্ষুধা লাগলে মেজাজ  বিগড়ে যাওয়া কি  রোগের ইঙ্গিত? 

ক্ষুধা পেলে অনেকের মেজাজ মুহূর্তেই বিগড়ে যায়; আবার কেউ দীর্ঘ সময় না খেয়েও স্বাভাবিক থাকেন। মানুষভেদে এমন পার্থক্য কেন? সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এর পেছনে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা নয়, বরং নিজের শরীরের সংকেত বোঝার ক্ষমতাও বড় ভূমিকা রাখে।

অনেক সময় দেখা যায়, শিশু খেলায় এতই মগ্ন যে ক্ষুধা লাগার বিষয়টিই টের পাচ্ছে না কিন্তু খাবারের সময় পেরিয়ে যেতেই হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ল। এমন অভিজ্ঞতা শুধু শিশুদের নয়, বড়দের জীবনেও ঘটে। আমরা অনেকেই ক্ষুধা পেলে অস্থির, বিরক্ত বা রাগী হয়ে যাই। এ অবস্থাকেই ইংরেজিতে বলা হয় ‘হ্যাংরি’ অর্থাৎ, ‘হাঙ্গার’ ও ‘অ্যাংরি’ শব্দ দুটির সমন্বয়ে তৈরি একটি শব্দ।

২০১৮ সালে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে ‘হ্যাংরি’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত হলেও ক্ষুধা কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন মেজাজকে প্রভাবিত করেÑ এ নিয়ে গবেষণা তুলনামূলক খুব কম হয়েছে। জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক নিলস ক্রোয়েমার জানান, মনোবিজ্ঞান ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষকদের একটি দল ৯০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ওপর এক মাস ধরে গবেষণা চালায়। অংশগ্রহণকারীদের শরীরে কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর লাগানো হয়, যা সারা দিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে। পাশাপাশি দিনে দুবার তাদের স্মার্টফোনে জানাতে বলা হয় তারা কতটা ক্ষুধার্ত এবং সেই মুহূর্তে তাদের মেজাজ কেমন।

গবেষণার ফল গবেষকদেরও অবাক করেছে। দেখা গেছে, শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলেই মানুষের মেজাজ খারাপ হয় না, বরং যখন কেউ নিজে অনুভব করেন যে তিনি ক্ষুধার্ত, তখনই বিরক্তি বা খিটখিটে ভাব বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ, শরীরের শক্তির মাত্রা নয়, বরং সেই সংকেত আমরা কতটা সঠিকভাবে বুঝতে পারছি, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা নিজেদের শরীরের ভেতরের সংকেত যেমনÑ ক্ষুধা, তৃষ্ণা বা ক্লান্তি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন, তাদের মেজাজ তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল থাকে। ক্ষুধা লাগলে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস প্রথমে শরীরে শক্তির ঘাটতি শনাক্ত করে। এরপর মস্তিষ্কের ইনসুলা অংশ সেই সংকেতকে সচেতন অনুভূতিতে রূপ দেয়। এই অংশ স্বাদ অনুভবের পাশাপাশি আবেগ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হঠাৎ মেজাজ খারাপ হয়ে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। এমন অবস্থায় মানুষ অনেক সময় আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নেন, এমনকি দ্রুত শক্তি পাওয়ার আশায় অস্বাস্থ্যকর খাবারও খেয়ে ফেলেন। গবেষকদের মতে, শরীরের প্রয়োজনের প্রতি সচেতন থাকলে শুধু মানসিক শান্তিই বাড়ে না, দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও তা উপকারী।

শিশুদের শরীর দ্রুত বেড়ে ওঠে। তাই তারা অনেক সময় ক্ষুধা বা তৃষ্ণার সংকেত ঠিকমতো বুঝতে পারে না।

চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক নিলস ক্রোয়েমার জানান, শিশুদের শরীর দ্রুত বেড়ে ওঠে। তাই তারা অনেক সময় ক্ষুধা বা তৃষ্ণার সংকেত ঠিকমতো বুঝতে পারে না। আবার খেলাধুলা বা অন্য কাজে এতটাই মনোযোগী থাকে যে খাওয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি খেয়াল করে না। ফলে হঠাৎ করেই তারা কান্না বা রাগের মতো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এমনকি, ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ এবং মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগের কারণে অনেক প্রাপ্তবয়স্কও সময়মতো খাবার খেতে ভুলে যান। ফলে শরীরের শক্তি কমে গেলে আচমকাই বিরক্তি বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষুধা লাগলে মেজাজ কিছুটা বদলানো স্বাভাবিক। তবে নিজের শরীরের সংকেত সম্পর্কে যত বেশি সচেতন হওয়া যায়, তত সহজে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই ক্ষুধা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে ‘হ্যাংরি’ হওয়া এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!