দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে হাম এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায়ই ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৫ জন আর হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ শিশুর। এসব মৃত্যুতে শোকে কাতর পরিবারগুলো।
গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু এবং হাম বিষয়ক পৃথক পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৪৫ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৭১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর। আর হাম উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬২৩ জন।
একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ১১ হাজার ৮৫১ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ১ লাখ ২১১ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩২৫ জন ও আক্রান্ত ৫৩ হাজার ৮৬৭ জন।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন পাঁচজন। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৪ জন ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে এবং শনাক্ত রোগী বেড়ে পাঁচ হাজার ৯২৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ১৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) আটজন রয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে দুজনের, ডিএনসিসিতে একজনের, ডিএসসিসিতে একজনের ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১০০ জন ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৫৫ জন।
তবে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা নিধন অভিযানে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মানুষের জীবনরক্ষা এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সম্প্রতি তিনি জানান, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির উদ্যোগে বাসাবাড়িতে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরবাসী যদি সচেতন হয়ে নিজের বাসা-বাড়ি, আঙিনা ও বাড়ির ছাদের ফুলের টবে জমে থাকা পানি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, তাহলে ডেঙ্গু থেকে বাঁচা সম্ভব। জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো অবস্থাতেই বাড়ির ছাদের ফুলের বাগানসহ টবে, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা বা যেকোনো পাত্রে পানি যেন জমে না থাকে, সে জন্য সচেতন হতে হবে। আমরা সচেতন হলেই নগরকে ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব। আল্লাহর রহমতে নগরবাসীর সহযোগিতায় আমরা ঢাকা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত করব।

