× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৬:২০ এএম

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৬:২০ এএম

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল

বাংলাদেশ কাউকেই দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দেবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে ১ জুলাইয়ের নৃশংস হামলা ছিল মানবতার ওপর এক চরম আঘাত এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সন্ত্রাস দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে বিশ্বে রোল মডেল স্থাপন করেছে। বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঢাকা এখন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আবেগঘন স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীতে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সরকারি বাসভবনে ঢাকাস্থ ইতালির দূতাবাস এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক অঙ্গনের সদস্য, নিহতদের স্বজন, ওই রাতের হামলা থেকে বেঁচে ফেরা জিম্মি, বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার চ্যান্সেলরির প্রধান লরা শিলা স্মারক অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের আগে ২০১৬ সালের সেই কালরাতে হামলায় ভুক্তভোগী সব নিহতের নাম শ্রদ্ধাভরে পাঠ করেন।

এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় কূটনৈতিক কোরের ডিন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এসওয়াই রামাদান, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা, ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপমিশন প্রধান আলবার্ট সিয়া এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। মর্মান্তিক এ ঘটনার স্মরণে সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

স্মরণসভায় ভারত, জাপান, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা বলেন, এ ধরনের ট্র্যাজেডি যেন আর কখনো কোনো দেশে ফিরে না আসে, সে লক্ষ্যে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তারা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংহতি, সম্মিলিত প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কূটনীতিকরা সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টা এবং এই ক্ষেত্রে দেশটির বিভিন্ন অর্জনের কথা গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তার বক্তব্যে আরও বলেন, হলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশ সন্ত্রাস দমনে অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি ২২ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের ফারাজ হোসেন, অবিন্তা কবির ও ইশরাত আখন্দ। এ ছাড়া ভারতীয় তরুণী তারিশি জৈনসহ ইতালির ৯ জন নাগরিকÑ ক্লাউদিয়া কাপেল্লি, ভিনচেনসো দালেস্ত্রো, মার্কো তোন্দাৎ, নাদিয়া বেনেদিত্তি, সিমোনা মন্তি, ক্রিস্তিয়ান রসি, মারিয়া রিবোলি, আদেলে পুলিজি ও ক্লাউদিয়া দান্তোনা এবং জাপানের ৭ জন নাগরিকÑ কামুরা মাকাতো, কোয়ো ওগাসাওয়ারা, হাসিমাতো হিদেকো, তানাকা হিরোশি, সাকাই ইউকু, শিমুধুইরা রুই ও কুরুসাকি নুবুহিরি এই নৃশংস হামলায় প্রাণ হারান।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!