× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শাহীনুর ইসলাম শানু

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৬:২৫ এএম

বিএসইসির পদক্ষেপ

বড় বিনিয়োগ আনতে স্টক এক্সচেঞ্জকে পূর্ণ ক্ষমতা

শাহীনুর ইসলাম শানু

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৬:২৫ এএম

বড় বিনিয়োগ আনতে স্টক  এক্সচেঞ্জকে পূর্ণ ক্ষমতা

‘দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে’Ñ অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের দুই দিনের মধ্যে লেনদেনে সর্বোচ্চ অবস্থান নেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে’ গত মঙ্গলবার ডিএসইতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। একই সঙ্গে বিশে^ ‘বিনিয়োগমুখী বাংলাদেশ’ গড়তে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন চেয়ারম্যান গতকাল বুধবার তার প্রথম বৈঠকে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বাজার নিয়ন্ত্রণে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের নতুন এই পদক্ষেপে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা।

তারা বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ সৃষ্টি হচ্ছে। নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা ফের বাজারে ফিরছেন। বর্তমান সরকারের ইতিবাচক মনোভাবই তাদের ফের বাজারে আনছে। বিশেষত অর্থমন্ত্রীর আশ^াসে পুঁজিবাজারে নতুন করে সাড়া ফেলছে।

বিএসইসির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘নতুন পদক্ষেপে এখন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো তাদের সমস্যার সমাধান করবে। রেগুলেটরি বডি সেই নির্দেশনা তাদের দিয়েছে।’

তারা আরও বলেন, ‘এতে করে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লেনদেনের সমস্যা সরাসরি সমাধান দিতে পারবে ডিএসই-সিএসই।’

রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক মিলনায়তনে গত সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দেশে শেয়ারবাজার বলে কিছু নেই। এটি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা এই ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসতে শুরু করেছি। ইতিমধ্যে আপনারা লক্ষ করেছেন, শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছি। এখানে আমরা কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দিইনি। যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা শেয়ারবাজারের ভেতরে ও বাইরের খবর জানেন।’

এদিকে, বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে গতকালই প্রথম কমিশনের ১০১৮তম জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পুঁজিবাজারের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিএসইসি বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গত সোমবারের আলোচনায় শেয়ারবাজারের প্রয়োজনীয় সব সংস্কারকাজ একসঙ্গে শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। সে সময় তিনি বলেন, ‘আমরা এসব সংস্কারের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করতে চাইছি, যারা বিনিয়োগকারী, তারা যেন প্রতারণার শিকার না হয়। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে কোনো ভালো কোম্পানি এখন আসছে না। তার কারণ তাদের আস্থা নেই। আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরানো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে উদ্যোগ নিচ্ছি, তাতে ইতিমধ্যে বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। জেপি মরগানের মতো কোম্পানি দুবার আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তারা বিনিয়োগ করতে চায়। আগামী দুই বছরের মধ্যে শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। এতে আমাদের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ডিএসইর পরিসংখ্যান অনুসারে, ৮ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। এর পরে ১১ আগস্ট ডিএসইতে  লেনদেন হয় ২ হাজার ১০ কোটি টাকা।

শেয়ারবাজার নিয়ে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দুই বছর পর গত মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যা ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ডিএসইতে বেড়েছে ২৪৯টি কোম্পানির শেয়ারদর এবং কমেছে ৯৪টির।

এদিকে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে ডিএসই ও সিএসই নিজেরাই সার্কিট ব্রেকার বা বাজার নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে পারবে।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী লেনদেনের সঙ্গে ডিএসইর প্রধান সূচকও বেড়েছে। ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৭২২ পয়েন্ট থেকে গতকাল বেড়ে অবস্থান নিয়েছে ৫ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে, যা ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের পর বা পৌনে ২ বছরে সর্বোচ্চ।

শেয়ারদর বাড়তে থাকায় নতুন করে বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হচ্ছেন। ফলে লেনদেনও বাড়ছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ১ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বেশি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। তবে গতকাল ব্যাংকে ছুটি হওয়ায় শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল।

এদিকে, স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড-সংক্রান্ত বিষয়েও একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১০১৮তম জরুরি সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুঁজিবাজারের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিএসইসি এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে তাদের এই স্বাধীনতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এই নতুন নির্দেশনার ফলে ১৭ জুন ২০২১ তারিখে বিএসইসি কর্তৃক জারি করা সার্কিট ব্রেকার-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী একটি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ‘বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত বিষয়েও একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে বিনিয়োগকারী এবং পুঁজিবাজারের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনা করে, ট্রাস্টির আবেদনের ভিত্তিতে এবং সম্পদ ব্যবস্থাপকের প্রস্তাব অনুযায়ী কমিশন চাইলে কোনো ফান্ডের অর্জিত আয় লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন না করে তা সংশ্লিষ্ট ফান্ডেই পুনরায় বিনিয়োগের অনুমোদন দিতে পারবে।’ যা পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও উন্নত করেব বলে মনে করেন বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!