দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগে অপসারণ করা হয়েছে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুস সালামকে। গতকাল রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তুতকৃত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে আব্দুস সালাম অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থেকে এমডি হিসেবে নিয়োগ পান। এমডি হওয়ার পরপরই আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ এবং দেশের বাইরে পাচারের অভিযোগ ওঠে। যদিও এ অভিযোগ তার বিরুদ্ধে বেশ পুরোনো ছিল। এদিকে অপসারিত হওয়া সাবেক এ এমডির বিরুদ্ধে দেশের বাইরে অর্থপাচার এবং বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।
সিআইডি জানিয়েছে, ঢাকা ওয়াসার অপসারণকৃত এমডি মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ওয়াসার সাবেক এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় সিআইডি। সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুস সালাম ব্যাপারী ১৯৯১ সালে ঢাকা ওয়াসায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্জিত অর্থ অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার করে তিনি নিজের, তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছা এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮ সালে তিনি নিজের নাম ও তার স্ত্রীর নামে টরন্টো শহরে একটি বাড়ি কেনেন। স্থানীয় ভূমি নিবন্ধন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ বাড়িটি কেনা হয়। বর্তমানে বাড়িটির মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও কানাডায় তার পরিবারের নামে বাড়ি থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে তিনি ছিলেন একই সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। এ পদে চাকরিকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। ওয়াসার এমডি হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনীয়ম, দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের পরিধি আরও বাড়তে থাকে। অভিযোগের মুখে গতকাল রোববার আব্দুস সালাম ব্যাপারী এমডির পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব দপ্তরে পদত্যাগ জমা দেওয়ার পর তা গৃহীত হয় মূলত এমডিকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে তাকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়ার পরই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
এর আগে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আব্দুস সালাম ব্যাপারী এবং প্রতিষ্ঠানটির তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, মানহীন সামগ্রী ক্রয় এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এমডি ছাড়াও অন্য অভিযুক্তরা হলেন ঢাকা ওয়াসার একটি প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওয়াজ উদ্দিন ওয়াজ ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এই তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও পৃথকভাবে অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।

