ভোরের আলো ফোটার আগেই কলসি আর প্লাস্টিকের ড্রাম হাতে সারিবদ্ধ মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। লালচে আর কালচে রঙের ঘোলা পানিই তাদের একমাত্র ভরসা। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের কালিবড়ী গ্রামের এই চিত্রটি এখন নিত্যদিনের। দেড়শ বছরের পুরনো একটি পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছে প্রায় দেড় হাজার পরিবার।
গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে কালিবড়ী গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ খালি কলসি হাতে নিয়ে পরিত্যক্ত ওই পুকুর পাড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা বলছেন, উপকূলীয় এই জনপদে গ্রীষ্মের শুরুতেই পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর জীবন ওষ্ঠাগত।
স্থানীয় বাসিন্দা সমির কুলু ও শৈলেন মাঝি আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে আমাদের এলাকার সব পুকুর শুকিয়ে যায়। দীর্ঘ বছর ধরে আমরা এই পুরনো পুকুরটি খননের চেষ্টা করছি, কিন্তু সরকারি কোনো সংস্থা এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি।’
কাকলী রানী ও নূপুর রানী জানান, ঘরের থালাবাসন ধোয়া থেকে শুরু করে রান্নাবান্না ও পান করা—সব কাজের জন্যই এই দূষিত পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। পানি স্বাস্থ্যসম্মত কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘স্বাস্থ্যসম্মত কি না জানি না, তবে পানি এখন লাল আর কালো হয়ে গেছে। এছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’
অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে প্রধান অতিথি ছিলেন জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-র পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়কারী এবং উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির উৎসগুলো আজ হুমকির মুখে। এই সংকট নিরসনে দ্রুত পুকুর খনন, গাইডওয়াল দিয়ে সুরক্ষা এবং সৌর বিদ্যুৎ চালিত ফিল্টার বা পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। আমরা এই যৌক্তিক দাবিগুলো সরকারি দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম তালুকদার জানান, তারা পুকুরটি পুনরায় খনন এবং একটি উন্নত ফিল্টার স্থাপনের জন্য ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস-এর নার্গিস পারভীন মুক্তি, রাজিব হাসান, নিভা তালুকদার এবং এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন