আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারী মো. পারবেজ মিয়া হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা হারুনর রশীদ মুন্না ও কামরুল হাসান রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস গতকাল বুধবার রিমান্ডের আদেশ দেন।
গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সকালে যাত্রাবাড়ী থানার মালঞ্চ গলি এলাকা থেকে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর গত ১৯ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ‘সাধারণ জনগণ’ কামরুল হাসান রিপনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। মুন্না আওয়ামী লীগের যাত্রাবাড়ী থানার সাধারণ সম্পাদক এবং রিপন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি। গ্রেপ্তার হয়ে জেলে থাকা এ দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে পারবেজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই নাজমুল হাসান। কয়েক দফা পিছিয়ে রিমান্ড শুনানির দিন রাখা হয় গতকাল বুধবার। সে অনুযায়ী, এদিন তাদের শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে ওবাইদুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন পারবেজ মিয়া। সেদিন বিকেলে আসামিদের ছোড়া গুলিতে আহত হন তিনি। তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন নিহতের মা কানীছ ফাতেমা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন