কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শত বছরের পুরোনো একটি সরকারি রাস্তা কেটে বিলীন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত বেশ কয়েকটি পরিবার কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মসজিদে যাতায়াতের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তরা ট্রাক্টর দিয়ে রাস্তা কেটে চাষ করেন। এ সময় ভুক্তভোগীরা ভয়ে কোনো ধরনের বাধা দিতে পারেননি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় মফিজুর রহমানের নাতি ও লোকমানের ছেলে রিফাতকে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গতকাল শুক্রবার দুপুরে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে অভিযুক্ত লোকমান ও তার সহযোগীরা তাদের ওপরও চড়াও হন।
জানা গেছে, সাতঘড়িয়া মৌজার বিএস ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৩২৭ দাগের জমি সরকারি রাস্তা শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সিএস ও আরএস জরিপেও জমিটি রাস্তা হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। প্রায় ৭৩ শতক জমির মধ্যে অন্তত ৭-৮ শতকজুড়ে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রাস্তা ব্যবহার হয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, এই রাস্তা দিয়েই গ্রামের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা দৈনন্দিন চলাচল করতেন এবং পাশের মসজিদে নামাজ আদায় করতেন।
ভুক্তভোগী আইয়ুব আলী জানান, এর আগেও প্রশাসন এসে রাস্তাটি উদ্ধার করে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার অস্ত্রের মুখে ট্রাক্টর দিয়ে আবারও রাস্তা নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এখন আমাদের চলাচলের কোনো পথ নেই।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫-১৬ সাল থেকে মফিজুর রহমানের ছেলেরা রাস্তাটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে তারা রাস্তার জমি পাশের নাল শ্রেণির জমির সঙ্গে একীভূত করে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিআর ৪৬৬/২০২৫ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে ২০২৫ সালের ২ জুলাই তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা সরেজমিন জমিটি সরকারি রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে রাস্তার চিহ্ন পুনরুদ্ধার করেন। এ ছাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালামও তার প্রতিবেদনে ওই দাগে সরকারি রাস্তার অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।
তবে অভিযুক্ত মোস্তফা দাবি করেন, বিরোধীয় স্থানে বহু আগে রাস্তা ছিল, পরে অন্যপাশ দিয়ে নতুন রাস্তা করা হয়। বর্তমানে জমিটি আমাদের দখলে রয়েছে। আইয়ুব গং এককভাবে এর সুবিধা নিতে চাইছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুল আমিন বলেন, সরকারি রাস্তা কেটে ফেলার বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন