নেপাল ও ভারতের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে দাবি করেছেন, শুধু ভারতই নেপালের ভূখ- দখল করেনি, নেপালও ভারতের কিছু ভূখ- দখল করে রেখেছে। তার এ বক্তব্য দেশটির রাজনীতি ও কূটনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে শাহ বলেন, দুই দেশেরই উচিত সীমান্তসংক্রান্ত তথ্য ও ইতিহাস খতিয়ে দেখে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। তবে ভারতের কোন অংশ নেপালের দখলে রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ভারত ও নেপালের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। কিন্তু কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল নিয়ে বহু বছর ধরেই বিরোধ চলছে। এই বিরোধের মূল সূত্র ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি। ওই চুক্তিতে কালী নদীকে সীমান্ত ধরা হলেও নদীটির প্রকৃত উৎস কোথায়, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। সেই অস্পষ্টতাকেই দুই দেশ নিজেদের অবস্থানের পক্ষে ব্যবহার করে আসছে। নেপালের দাবি, কালী নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরায়।
অন্যদিকে ভারতের দাবি, নদীর উৎস লিপুলেখ এলাকায়। ফলে মধ্যবর্তী বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। শাহ তার বক্তব্যে পুরোনো মানচিত্র ও ঐতিহাসিক নথি খুঁজে দেখতে যুক্তরাজ্যের সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন। এতে ভারত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে দুই দেশের নিজস্ব দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে এবং এতে তৃতীয় কোনো পক্ষের ভূমিকা নেই। নেপালের ভেতরেও শাহর বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা তার বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। সাবেক কূটনীতিকদের অনেকে বলছেন, নেপাল কখনো ভারতের জমি দখল করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয়তাবাদী আবেগ সামনে এনে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেই শাহ এ মন্তব্য করেছেন। তবে এতে ভারত-নেপাল সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন