× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০২:৫৪ এএম

তদন্ত চললেও স্বপদে বহাল

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০২:৫৪ এএম

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ  কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী ছোনকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ পাওয়া মোটা অঙ্কের অর্থ এবং দোকান ভাড়াসহ অভ্যন্তরীণ আয়ের অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত চললেও এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম। তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও তাকে অপসারণ না করায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৭ বিঘা জমি মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় পড়লে সরকার ৯৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। ২০২৫ সালের শেষদিকে এই অর্থ বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। অভিযোগ উঠেছে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক দফায় মোট ৩১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো বা শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বিশাল অর্থের কোনো দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন এবং কিছু অর্থ তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের তথ্যও সামনে এসেছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন তিন শতাধিক দোকানঘর থেকে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ভাড়া আদায়ের কথা থাকলেও তার কোনো হিসাব বিদ্যালয়ের মূল তহবিলে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া খেলার মাঠ সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ নয়ছয় করা এবং মাঠের একটি অংশ অবৈধভাবে প্লট আকারে বণ্টন করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টিও অভিভাবকদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

প্রধান শিক্ষকের সহযোগী সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. দিলফুজার রহমান রিপনের কাছে অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থেই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং দোকানগুলো প্রভাবশালী মহলের দখলে থাকায় ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের মাঠ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তবে কোনো উন্নয়নের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় গত ১০ মার্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, আয়-ব্যয়ের নথিপত্রে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু অসংগতি ও অনিয়ম পাওয়া গেছে। দ্রুতই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

ইউএনও মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, বিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। পূর্বের বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিয়ে কোনো রকম দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। তদন্তে অপরাধ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!