রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে লিচু বাগান পাহারার সময় মো. মেহেদী হাসান বাপ্পি নামে এক যুবক ও তার মা নূরজাহান পারভীনের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার এ অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, লিজ নেওয়া লিচু বাগান পাহারা দেওয়ার সময় পাঁচ ভাইসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে বাপ্পির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে মা নূরজাহান পারভীন এগিয়ে এলে তাকেও লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, হামলাকারীরা বাপ্পির কাছে থাকা লিচু বিক্রির তিন লাখ টাকা এবং তার মায়ের গলা থেকে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেনসহ নগদ টাকা লুটে নিয়েছে। পরিবারটির অভিযোগ, এই হামলাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছর আগের ‘সুমন হত্যা মামলার’ আসামিদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বাপ্পির নানি কমেলা ওরফে কনা আক্ষেপ করে বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় আগে সুমনকে হত্যা করা হলেও তারা এখনো বিচার পাননি, বরং আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে তাদের ওপর ক্রমাগত নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাপ্পিকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে এই নতুন হামলা চালানো হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানায় দায়ের করা অভিযোগে হামলাকারী হিসেবে মো. মিঠুন, মো. ইফতিখার, মো. সালাম, মো. খায়রুল ও মো. আনোয়ারুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সুমন হত্যা মামলার ১৮ জন আসামির পরোক্ষ মদদ থাকার কথাও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে ঘটনার পর থেকে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, তদন্তে প্রকৃত দোষী হিসেবে বাপ্পিকেই পাওয়া গেছে এবং মামলা হলে বাপ্পির বিরুদ্ধেই হবে। ওসির এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দীর্ঘদিনের এই শত্রুতা ও বারবার হামলার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও বর্তমানে চরম উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

