আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে দিনাজপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশালাকৃতির এক রাজকীয় ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছে ‘সম্রাট’। ৩০ মণ ওজনের এই সুঠাম দেহের ষাঁড়টি এখন কোরবানির হাট কাঁপানোর অপেক্ষায়। ধূসর রঙের এই ষাঁড়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং উচ্চতা ৫ ফুট। সম্রাটের মতোই এর ভাবভঙ্গি আর রাজকীয় চলন দেখে মালিক ভালোবেসে এর নাম রেখেছেন ‘সম্রাট’।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার শেষ সীমানার হামিদপুর ইউনিয়নের মধ্যদুর্গাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক গত দুই বছর ধরে নিবিড় মমতায় বড় করেছেন ষাঁড়টিকে। শাহিওয়াল-ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের এই ষাঁড়ের বর্তমান ওজন ১ হাজার ১২৫ কেজি। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই এটিকে লালন-পালন করা হয়েছে।
সম্রাটের যতœআত্তি ও খাদ্যাভ্যাসও সাধারণ গরুর চেয়ে আলাদা। মালিকের ভাষ্যমতে, সম্রাটের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে খড়, কাঁচা ঘাস, ছোলা, মসুরের ডাল, ভুসি, ভুট্টার আটা ও খৈল। তবে কেবল এসবে সন্তুষ্ট নয় সম্রাট; তাকে নিয়মিত খাওয়ানো হয় আপেল, গাজর, কাঁঠাল ও কাঁচা কলার মতো বিভিন্ন পুষ্টিকর ফল। গরমে আরাম দিতে তার ঘরে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা, এমনকি বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিবারের সদস্যরা হাতপাখা দিয়ে সম্রাটকে বাতাস করেন। প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চারবার গোসল করানো হয় এই বিশালাকৃতির ষাঁড়কে। এর পেছনে প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা।
মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সম্রাট আমার সন্তানের মতো। নাম ধরে ডাক দিলে ও সুন্দর করে সাড়া দেয় এবং ফিরে তাকায়। ওকে পরিবারের একজন মনে করেই আমরা বড় করেছি। ব্যবসার পাশাপাশি শখের বশে ওকে পালন করেছি, এখন বিদায় দেওয়ার সময় বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু রাজকীয় এই ষাঁড়র পালনের খরচ সামলানো এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক আরও জানান, সম্রাট ছাড়াও তার খামারে আরও ১০টি উন্নত জাতের গরু রয়েছে। সম্রাটের বিশালাকৃতির কারণে সেটিকে ট্রাকে তুলে হাটে নেওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। তাই তিনি বাড়ি থেকেই সম্রাটকে বিক্রি করতে চান। এই রাজকীয় ষাঁড়ের দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। তবে প্রকৃত ক্রেতা পাওয়া গেলে আলোচনা সাপেক্ষে দাম কিছুটা সমন্বয় করা হতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন