সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে আবারও ৮ বনজীবীকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর সুবদেব খাল, গুবদেব খাল ও ধান্যখালীর চর এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় উপকূলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অপহৃত বনজীবীরা হলেনÑ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জের মীরগাঙ এলাকার বারি তরফদারের ছেলে নজরুল তরফদার (৪৫), আমির আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান (৩৫), ছোট ভেটখালী এলাকার ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আটুলিয়া ইউনিয়নের ভড়ভড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে আব্দুল আলিম গাজী (৪০), একই এলাকার ইব্রাহিম গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৮), শামসুর রহমান গাজীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৪২), খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান।
অপহরণকারীদের কবল থেকে কৌশলে ফিরে আসা কয়েকজন সহযোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বনজীবীরা মাছ ও বনজ সম্পদ আহরণের জন্য সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় সশস্ত্র দস্যুরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়।
তাদের দাবি, অপহৃত প্রত্যেক বনজীবীকে মুক্ত করতে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। বনদস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পরিবারের সদস্য ও মহাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।
বনজীবীদের মহাজনরা অভিযোগ করেন, এর আগেও সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জেলে ও মৌয়াল অপহরণের পর একইভাবে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে। এমনকি মধু আহরণ মৌসুম শুরুর আগেই অনেক মৌয়ালের কাছ থেকে অগ্রিম চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে। টাকা পরিশোধের পর অনেককে বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো বলেও জানান তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন