সাড়ে চার শতাব্দীর অধিক লোকজ ঐতিহ্য আর জামাই-আদরের চিরচেনা আবহে বগুড়ার শেরপুরে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘জামাইবরণ’ মেলা। গতকাল রোববার উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের নন্দীগ্রাম সড়কের দুই পাশে উৎসবের রঙে মেতে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন, যা স্থানীয়ভাবে ‘কেল্লাপোষী’ মেলা নামে পরিচিত। প্রায় ৪৭০ বছর আগে ১৫৫৬ সালে শুরু হওয়া এ মেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ, ঘরে ঘরে মেয়ে-জামাই আর আত্মীয়স্বজনদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ।
স্থানীয়দের মতে, তৎকালে কালুগাজী পিরের বিয়ে উপলক্ষে কেল্লাপোষী দুর্গে তিন দিনব্যাপী আনন্দ-উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই উৎসব থেকেই পরবর্তী সময়ে এই মেলার উৎপত্তি। আগে তিন দিনের হলেও এখন তা সপ্তাহব্যাপী আয়োজনে রূপ নিয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্ত থেকে মেয়ে-জামাই ও আত্মীয়স্বজনেরা নাইওরে আসতে শুরু করেছেন। জামাইরা শ^শুরবাড়িতে বড় মাছ, মিষ্টি ও নানা উপহার নিয়ে আসছেন, যা এই মেলার অন্যতম সামাজিক রেওয়াজ।
মেলার প্রধান আকর্ষণ বড় সাইজের মাছ, খাসির মাংস, দই-মিষ্টি, মৌসুমি ফল, নতুন কাপড়, ছাতা ও মসলার সামগ্রী। এ ছাড়া বিভিন্ন আসবাবপত্র, বাঁশ-বেতের জিনিস ও শিশুদের খেলনার দোকানেও ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে প্রায় এক হাজার দোকান। মেলার কেন্দ্রস্থলে থাকা অন্তত ২০০ বছরের পুরোনো একটি বটগাছের নিচে অবস্থিত মাজারে ভক্তরা ধূপ-মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করছেন, পাশাপাশি চলছে ‘মাদার’ তোলার আয়োজন। বিনোদনের জন্য মেলায় রয়েছে নাগরদোলা, মোটরসাইকেল খেলা, সার্কাস ও ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার আয়োজন।
কুসুম্বি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্না বলেন, মেলা ঘিরে পুরো ইউনিয়নে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে এবং ঘরে ঘরে আত্মীয়দের মিলনমেলা বসেছে।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, মেলার নিরাপত্তায় সর্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মেলায় যেকোনো ধরনের জুয়া ও অশ্লীল কর্মকা- ঠেকাতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন