ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

একনজরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৫:২০ এএম

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বিপর্যস্ত আর্থিক খাত সংস্কার, দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণসহ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত এ বাজেট উপস্থাপন করেন। এবারের বাজেট বক্তৃতার শিরোনাম হচ্ছেÑ ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ : সবার জন্য উন্নয়ন’।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় টাকার অঙ্কে বাজেটের আকার বাড়ছে ১ হাজার ৪৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটের আকার ও আয়-ব্যয় : প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের চূড়ান্ত আকার (ব্যয়) ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এতে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতি ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এটি ছিল জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি : বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির গড় হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বাজেটের প্রতিবাদ্য হচ্ছে, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। আগামী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা।

বাজেটের আয় যেভাবে আসবে : বাজেটে রাজস্ব প্রাপ্তি কর থেকে আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত করের মাধ্যমে আয় ধরা হয়েছে ২৫ হাজার হাজার কোটি টাকা। করবহির্ভূত রাজস্ব থেকে আয় আসবে ৬৬ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটের ঘাটতি যেভাবে পূরণ করা হবে : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি মোকাবিলায় অর্থায়নের উৎস হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং অনুদান। বাজেট ঘাটতি পূরণে আগামী বাজেটে ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য খাত থেকে নেওয়া হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।