ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়ে ৬৯৪০৯ কোটি টাকা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৫:২৪ এএম

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পূর্বশর্ত। তবে ফ্যাসিবাদী সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণ ক্রয়ে বিপুল ব্যয় হলেও সেবার মানে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইসঙ্গে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে সর্বজনীন ও ন্যায়সংগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তর, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদারকরণ এবং স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও চিকিৎসা শিল্পের বিকাশ ঘটানো।

এ সময় তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশের বাজেট বরাদ্দে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাইরেও অন্যান্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত স্বাস্থ্য উদ্যোগ, স্বাস্থ্য ব্যয় এবং হাসপাতালগুলোতে বরাদ্দ বিবেচনা করা হয়েছে। যেমন- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পুলিশ অধিদপ্তর পরিচালিত হাসপাতাল এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্যসেবা। এই বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় চলতি বছরের জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হবে। আগামীতে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে বলেও জানানো হয়।

নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক এবং প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তুলতে নতুন এমবিবিএস কারিকুলাম চালু, এআইভিত্তিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ক্লিনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের ওয়ার্ড পর্যায়ে এক বা একাধিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে ‘জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক’ গঠন এবং ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর ঘোষণাও রয়েছে বাজেটে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, স্থানীয় ওষুধ শিল্পের বিকাশ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল ডিভাইস শিল্পকে অগ্রাধিকার খাতে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।