বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনির পর নিজের কষ্টার্জিত টাকায় কেনা জমি ও আর্থিক হিসাব বুঝে নিতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক প্রবাসফেরত ব্যক্তি। নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে লোহার শিকল দিয়ে একটি নারকেলগাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের বাদলাকুড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এই অমানবিক ঘটনার পর নিজের বাবার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার ওই ব্যক্তির নাম সোরহাব হোসেন ওরফে বাবু। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোরহাব হোসেন দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে ছিলেন। বিদেশে থাকাকালে জমি কেনার উদ্দেশ্যে কয়েক দফায় নিজের শ্বশুর মহর উদ্দিনের কাছে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা পাঠান তিনি। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি সেই টাকা এবং কেনা জমির হিসাব চাইতে নালিতাবাড়ীতে শ্বশুরবাড়িতে যান। এই পাওনা টাকা ও জমির হিসাব নিয়ে শ্বশুর মহর উদ্দিনের সঙ্গে সোরহাবের তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তখন শ্বশুরপক্ষের লোকজন সোরহাবকে জোরপূর্বক অবরুদ্ধ করে বাড়ির উঠানের একটি নারকেলগাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে দিনদুপুরে নির্মমভাবে মারধর করে।
এদিকে এক প্রবাসীকে গাছের সঙ্গে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে নালিতাবাড়ী থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানার পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিকলবন্দি অবস্থা থেকে সোরহাবকে উদ্ধার করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, সেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর এই অমানবিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের বাবার বিরুদ্ধে দাঁড়ান সোরহাবের স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গতকাল শুক্রবার সকালে মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে নিজের বাবা মহর উদ্দিন এবং চাচা আসাদ আলীসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত শ্বশুর মহর উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। নালিতাবাড়ী থানার ওসি আশরাফুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

