ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

বললেন প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৫:৫৫ এএম

শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সব আয়োজন তোমাদের ঘিরে। কারণ, আমরা এখন আছি, পরে থাকব না। কিন্তু তোমরা থাকবে। সেটা খেলাধুলায় হোক বা উদ্ভাবনে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তোমরা দেবে।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটি কাজের আউটপুট থাকতে হবে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অন্য সব দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আমরা খেলাধুলা, সংস্কৃতি, ইনোভেশন নিয়ে আসতে চাচ্ছি। এটি হঠাৎ করে আমরা চিন্তা করে আনছি না। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎকে আমরা সাজাব। সে জন্যই সিদ্ধান্ত নিয়েছিÑ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ আরও কিছু ভাষা আমরা সিলেক্ট করব। যে ভাষা শিখলে দেশে বা বিদেশের যেকোনো জায়গায় গেলে যেন কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। তাই বিভিন্ন ভাষা আমরা তোমাদের শেখাতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সিলেবাসের মধ্যে বিভিন্ন খেলা অন্তর্ভুক্ত করব। এতে যার যে খেলা ভালো লাগবে সে খেলায় সে আরও বেশি দক্ষ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আমরা কারিগরি শিক্ষা চালু করতে চাই। এটি একটি বাড়তি দক্ষতা হিসেবে যোগ হবে।’

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রতি বর্ষা মৌসুমে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বছরে একটি করে গাছ লাগালে গাছ যেমন বড় হবে, তেমনি তোমরাও বড় হবে। একসময় সেই গাছকে নিজের বন্ধুর মতো মনে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরিবারের নতুন কোনো ভাই বা বোন জন্ম নিলে তাদের নামে একটি গাছ রোপণ করা যেতে পারে। এতে সন্তান যেমন বেড়ে উঠবে, গাছটিও তেমনি বড় হবে।’

এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও বাইবেলের অংশবিশেষ পাঠ করা হয়। এ ছাড়া একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। অনুষ্ঠানে সারা দেশের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে গত ১২ জুন সারা দেশে শুরু হয় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’। গতকাল এই অনুষ্ঠানে প্রতিটি ধাপের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক দলকে ২০ হাজার টাকার চেক, পদক ও সনদপত্র এবং বিজয়ী শিক্ষকদের ৩০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের দুপুরের বিরতিতে অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের দেশের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।