অন্যান্য মাসের তুলনায় চলতি বছরের জুন মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিলক্ষিত হচ্ছে মর্মে বিভিন্ন সূত্র হতে জানা যাচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিসমূহকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রাহকবৃন্দকে অতিরিক্ত বিল-সংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিসমূহের সঙ্গে সরাসরি অথবা ইতিপূর্বে প্রদত্ত হটলাইনসমূহে যোগাযোগ করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ হতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা- ১৬৯৯৯, বিপিডিবি কল সেন্টার- ১৬২০০, আরইবি কল সেন্টার- ১৬৮৯৯, ডিপিডিসি কল সেন্টার- ১৬১১৬, ডেসকো কল সেন্টার- ১৬১২০, নেসকো কল সেন্টার- ১৬৬০৩, ওজোপাডিকো কল সেন্টার- ১৬১১৭-এ যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের খবরের সঙ্গে বাড়তি বিল এবং প্রিপেইড মিটার রিচার্জে নানা রকম বিড়ম্বনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে গত মাসে দাম বাড়ানোর কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রায় ২০ শতাংশ বেশি বিল হওয়ার কথা। প্রতিবছর জুনেই ঘাটতি সমন্বয় করার জন্য কিছু এলাকায় কারসাজির অভিযোগ ছিল। কেউ ৭৫ ইউনিট ব্যবহার করেছেন, তাকে কয়েক ইউনিট বাড়িয়ে বাড়তি বিল ধরিয়ে দেওয়ার অনেক নজির বিদ্যমান।
কয়েকদিন ধরে সারা দেশে তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। সেই ক্ষোভকে উসকে দিতে পারে বাড়তি বিলের বোঝা। সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে (শুক্র ও শনি) কলকারখানা বন্ধ থাকায় চাহিদা কম থাকায় লোডশেডিং কম হয়। কিন্তু সেই নিয়ম খাটছে না এবার। ২৬ ও ২৭ জুন (শুক্র-শনি) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সারা দেশ থেকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির উৎপাদন বিবরণী অনুযায়ী, ২৭ জুন রাত ৯টায় ২৮৭৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। ওই সময়ে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ৩০১ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার ২৯৮ মেগাওয়াট। ওই দিন সকাল ৯টায় সবচেয়ে কম চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৮৭৩ মেগাওয়াট। ওই সময়েও লোডশেডিং করা হয়েছে ৬৪৩ মেগাওয়াট। এরপর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টায় লোডশেডিং করা হয় এক হাজার ৫৮ মেগাওয়াট, বেলা ৩টায় দুই হাজার ৬৯ মেগাওয়াট। এরপর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত লোডশেডিং দুই হাজার মেগাওয়াটের ওপরে দেখা গেছে। অতীতে দেখা যেত সেচ মৌসুম ছাড়া অন্য সময়ে রাত ১২টার পর থেকে লোডশেডিং কমে আসত, চলতি মৌসুমে সেই কথাও চলছে না। শনিবার ছুটির দিনেও রাতভর লোডশেডিংয়ের খবর এসেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন