ঠাকুরগাঁওয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল একটি শিশু ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি মো. আ. মমিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই মামলার অপর আসামি মো. এরশাদ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি রাণীশংকৈল থানার মামলা নম্বর-১৭, তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৫ এবং শিশু সহিংসতা মামলা নম্বর-১৮০/২০১৬ হিসেবে বিচারাধীন ছিল।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত প্রায় ৮টার দিকে ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে রেখে তার মা পাশের বাড়িতে যান। রাত প্রায় ৯টার দিকে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী মো. আ. মমিন তার বাকপ্রতিবন্ধী কন্যাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করছে। এ সময় তাকে দেখে আসামি পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীর শরীরে ও পরনের কাপড়ে রক্ত এবং বীর্যের আলামত দেখতে পান স্বজনরা। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করে।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মো. আ. মমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
রায়ে আদালত আরও নির্দেশ দেন, অর্থদণ্ডের পুরো অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আপিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দণ্ডিতের বিদ্যমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে এ অর্থ আদায় করা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পত্তি থেকেও ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা যাবে এবং এ দাবিই অগ্রাধিকার পাবে।
এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসককে দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হলে তা ভুক্তভোগীকে প্রদান করা হবে।
অপর আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
আদালত আরও নির্দেশ দেন, দণ্ডিত আসামির বিচারপূর্ব হাজতবাসের সময় সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে তাকে সাজা ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। জব্দকৃত আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং আপিলের ফলাফলের পর আইন অনুযায়ী তা নিষ্পত্তি করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন