× UCB Sticker Card
বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৬:১৫ এএম

পুণ্যভূমিতে ‘অন্ধকার জগৎ’

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৬:১৫ এএম

পুণ্যভূমিতে ‘অন্ধকার জগৎ’

সিলেট আধ্যাত্মিক রাজধানী। যেখানে শহরের সর্বত্র সুফি-সাধকদের পুণ্যস্মৃতি বিজড়িত। ঠিক তার বিপরীতে শহরের ভেতরে রয়েছে অন্ধকার জগতের এক টুকরো প্রতিচ্ছবি। ‘মেথর পট্টি’ যার এক নামে পরিচিতি। বন্দরবাজার সংলগ্ন কাষ্টঘর কলোনি এটি। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মেথর পট্টি’ হিসেবে পরিচিত। যেখানে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে অপরাধ সাম্রাজ্য। আপাতদৃষ্টিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এই অবহেলিত ও পিছিয়ে থাকা জনপদটিই এখন রূপ নিয়েছে সিলেটের অন্যতম ‘অন্ধকার জগৎ’। পুণ্যভূমিতে যেন আরেক ‘নিষিদ্ধ নগরী’।

সম্প্রতি এই অন্ধকার সাম্রাজ্যে সাঁড়াশি আঘাত হানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুহূর্তের মধ্যে নিভিয়ে দেওয়া হয় কাষ্টঘরের ভেতরের আলো, পুরো এলাকা নিমেষেই ডুবে যায় অন্ধকারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে মাদক কারবারিরা। তবে শেষরক্ষা হয়নি; বেশ কয়েকজন কারবারি বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে এলাকা ছাড়তে সক্ষম হলেও পুলিশ একের পর এক ঘরের তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়।

স্থানীয়রা জানান, এই অনগ্রসর জনপদটি দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের মাদক সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু বা ‘সেফ জোন’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কাষ্টঘরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ, ভারতীয় ফেনসিডিল, হেরোইন এবং হাজার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে এক সঙ্গেই ৫০ থেকে ৬০ জন মাদকসেবী ও খুচরা কারবারিকে গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে। এমনকি কলোনির ঘিঞ্জি ঘরগুলোর নিচে মাদক লুকিয়ে রাখার জন্য বিশেষ গোপন ‘বাংকার’ তৈরি এবং অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সুরমা নদী দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ রুট ব্যবহারও করা হতো। শুধু মাদকই নয়, সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছিনতাই ও চুরি হওয়া মোবাইল, ল্যাপটপ এবং মোটরসাইকেল বিক্রির অন্যতম নিরাপদ বাজার হিসেবেও কাষ্টঘরের নাম বারবার উঠে এসেছে। যার প্রমাণ সর্বশেষ অভিযানে পাওয়া গেছে। এ সময় পুলিশ ২৩টি চোরাই মোবাইল ও আইপ্যাড উদ্ধার করে।

সূত্র জানায়, তাদের এই অপরাধের নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং ভেতর থেকে কেউ তাদের তথ্য পাচার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। অতীতেও পুলিশ কলোনির মুখে পৌঁছানোর আগে পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রশাসনের বা ভেতরের কিছু অসাধু চক্রের সঙ্গে এই মাদক সম্রাটদের গভীর যোগাযোগ রয়েছে, যা অভিযানের আগাম তথ্য তাদের কাছে পৌঁছে দেয়। সর্বশেষ অভিযানেও তা-ই হয়েছে।

কাষ্টঘরের এই সুইপার কলোনি বা মেথর পট্টির জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত করুণ। যুগের পর যুগ ধরে এখানকার বাসিন্দারা মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে এক পিছিয়ে থাকা জীবনযাপন করছেন। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, ঘিঞ্জি ঘর আর সামাজিক অবহেলার কারণে এখানকার তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ সহজেই অপরাধের চোরাবালিতে পা বাড়াচ্ছে। এই অনগ্রসরতার সুযোগ নিয়েই সিলেটের বড় বড় মাদক সিন্ডিকেট ও গডফাদাররা এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সামান্য টাকার বিনিময়ে মাদকের বাহক বা ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

মহাজন পট্টির ব্যবসায়ী রবিউল হুসাইন বলেন, শুধু সাময়িক অভিযান চালিয়ে কাষ্টঘরের এই অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরার আওতা বাড়ানো এবং একই সঙ্গে এই অনগ্রসর মেথর পট্টির বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, শিক্ষা এবং মূলধারার সমাজে পুনর্বাসন করা জরুরি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেটের সীমান্তসংলগ্ন গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট এবং জকিগঞ্জ রুট দিয়ে আসা মাদক যাতে শহর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য মহানগরের প্রবেশদ্বারগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। শহরকেন্দ্রিক মাদক রুটের মূল গন্তব্য হলো কাষ্টঘর বা মেথর পট্টি। সেখান থেকেই সিলেটের ক্বিন ব্রিজের মোড়, কদমতলী বাস টার্মিনাল, কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড, সুরমা নদী তীরবর্তী এলাকা এবং উপশহরসহ বিভিন্ন চিহ্নিত স্পট ও ছাত্রাবাসগুলোতে মাদক সরবরাহ করা হয়। তাই ওই স্পটগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে।

সিলেট কতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইনুল জাকির জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’-নীতি বজায় থাকবে। বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মেথর পট্টি শহরের বিষফোড়া। পুলিশ সেই ক্ষত দূর করতে বদ্ধপরিকর।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!