জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ইমন গাজী হত্যা মামলায় সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ইকবাল বাহারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। বাকি দুজন হলেনÑ ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মুন্না এবং যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত পুলিশের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমাদুল করিম আসামিদের আদালতে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল বাহারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানার অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
অন্যদিকে, একই মামলায় হারুনুর রশীদ মুন্না ও কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, তাদের সরাসরি নির্দেশ ও মদদে মো. ইয়াছিন উদ্দিন ওরফে শুটার লিটন ইমন গাজীকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। হারুনুর রশীদ মুন্না ও কাজী মনিরুল ইসলাম মনুও পৃথক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার চিটাগাং রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ইমন গাজী। এ ঘটনায় তার ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গত ২৮ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন