বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী জরুরি মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন। সংস্থাটি বলছে, প্রয়োজন দ্রুত বাড়লেও নারী নেতৃত্বাধীন ও নারীর অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলো তীব্র অর্থসংকটে ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউএন উইমেন জানায়, গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশও সহায়তা ব্যয় কমানোয় বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান সোফিয়া কালতোর্প বলেন, বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা নারী সংগঠনগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের সামনের সারিতে কাজ করছে। তার ভাষায়, নারী সংগঠনগুলোর জন্য প্রত্যাহার করা প্রতিটি ডলার মানে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার শিকার নারী, বাস্তুচ্যুত মা, স্কুলছুট কিশোরী এবং সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রত্যাহার করা।
সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ কোটি নারী ও কিশোরীর মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। সংকটকবলিত ৫২টি দেশের নারী নেতৃত্বাধীন ও নারীর অধিকারভিত্তিক ৮৫৫টি সংগঠনের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৮৪ শতাংশ সংগঠনের সেবার চাহিদা বেড়েছে। তবে প্রতি ১০টি সংগঠনের প্রায় ৯টিই বর্তমান চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি পাঁচটি সংগঠনের মধ্যে দুটি আগামী এক বছরের মধ্যে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। সংগঠনগুলো টিকিয়ে রাখতে অনেক কর্মী ও নেতৃত্ব ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নারী নেতৃত্বাধীন ৬৫ শতাংশ সংগঠনে কর্মীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করছেন এবং প্রায় অর্ধেক সংগঠন কর্মীদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক অবসাদ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।
ইউএন উইমেন সতর্ক করে বলেছে, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার ঘটনা দ্বিগুণ হলেও একই সময়ে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় গড়ে ওঠা সহায়তাব্যবস্থাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬ শতাংশ সংগঠন জানিয়েছে, তাদের কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে।
সংস্থাটির মতে, সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে। এতে সহিংসতার শিকার নারীরা আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে তা বন্ধ দেখতে পারেন, গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা পেতে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হতে পারে এবং অনেক মা সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসহায়তা থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন।
ইউএন উইমেন আরও বলেছে, এই সংকট শুধু মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অধিকার ও লিঙ্গসমতার অগ্রগতিও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচটি সংগঠনের একটি ইতোমধ্যে নারী নেতৃত্ব ও লিঙ্গসমতা উন্নয়নের কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং অর্ধেকের বেশি সংগঠন স্থানীয় নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষ করছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন