ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় স্কিলস ইন ডিমান্ড

সহজ হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের পথ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৫:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৫-২৬ সালের জন্য তাদের অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে স্থায়ীভাবে বসবাসের (চজ) সুযোগ আরও সহজ ও ত্বরান্বিত করেছে। যারা সঠিক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অভাবে পিছিয়ে ছিলেন, তাদের জন্য এটি বর্তমানে গোল্ডেন অপরচুনিটি। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি উম্মে নাবিলার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন মিনহাজুর রহমান নয়ন

অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের নতুন সুযোগগুলো এবং এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

অস্ট্রেলিয়া পিআর ২০২৫-২৬ : নতুন সম্ভাবনার দ্বার

২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের (চবৎসধহবহঃ জবংরফবহপু) জন্য প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার তাদের পুরোনো ও জটিল ভিসা পদ্ধতি পরিবর্তন করে ‘স্কিলস ইন ডিমান্ড’ (ঝশরষষং রহ উবসধহফ) নামক নতুন কাঠামো চালু করেছে। যেখানে আগে ৩-৫ বছরের অভিজ্ঞতা লাগত, এখন মাত্র ১ বছরের অভিজ্ঞতায় আবেদন শুরু করা যাচ্ছে এবং মাত্র ২ বছর কাজ করেই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ পরিবর্তন মূলত দক্ষ কর্মীদের দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ সুগম করেছে।

ভিসার নাম ও পরিবর্তন

অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় কাজের ভিসা সাবক্লাস ৪৮২ (ঞবসঢ়ড়ৎধৎু ঝশরষষ ঝযড়ৎঃধমব) পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপে আসছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্কিলস ইন ডিমান্ড’ (ঝশরষষং রহ উবসধহফ) ভিসা। মূলত অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল এবং সহজতর করতেই এই রূপান্তর।

অভিজ্ঞতার শর্তে বড় শিথিলতা

এতদিন অস্ট্রেলিয়ার কর্মভিসার জন্য ন্যূনতম ২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী:

১ বছরের অভিজ্ঞতা : এখন মাত্র এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই এই ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে।

সময়ের সীমাবদ্ধতা মুক্তি : আগে গত ৫ বছরের মধ্যে ২ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল। নতুন নিয়মে এই নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ‘টাইম ফ্রেম’ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ক্যাজুয়াল কাজের স্বীকৃতি : আগে শুধুমাত্র ফুল-টাইম বা পার্ট-টাইম কাজ গণ্য হতো। এখন অস্থায়ী বা ‘ক্যাজুয়াল’ কাজের অভিজ্ঞতাকেও ওই ১ বছরের শর্ত পূরণে ব্যবহার করা যাবে।

ভিসার তিনটি নতুন স্তর

নতুন ‘স্কিলস ইন ডিমান্ড’ ভিসাকে বেতনের ওপর ভিত্তি করে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

স্পেশালিস্ট স্কিলস পাথওয়ে : বার্ষিক ১ লাখ ৩৫ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার বা তার বেশি বেতনের উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য।

কোর স্কিলস পাথওয়ে : এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় হবে। যাদের বার্ষিক বেতন প্রায় ৭৪ হাজার ডলারের আশপাশে, তারা এই ধাপে আবেদন করবেন। অধিকাংশ সাধারণ পেশা এ তালিকায় থাকবে।

এসেনশিয়াল স্কিলস পাথওয়ে : যারা তুলনামূলক কম বেতনের পেশায় যুক্ত (যেমন- কৃষি বা নির্মাণ শ্রমিক), তাদের জন্য এই বিশেষ সুযোগ রাখা হচ্ছে।

স্থায়ী বসবাসের দ্রুত সুযোগ

নতুন নিয়মের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো স্থায়ী বাসিন্দা (চজ) হওয়ার সুযোগ। আগে যেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এখন মাত্র ২ বছর এই কর্ম ভিসায় কাজ করার পর সরাসরি স্থায়ী বসবাসের বা পিআর-এর জন্য আবেদন করা যাবে। এটি দক্ষ কর্মীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথকে অনেক বেশি প্রশস্ত করবে।

স্পন্সরশিপ ও নিয়োগকর্তার ভূমিকা

অস্ট্রেলিয়ার কর্মভিসার প্রধান শর্ত হলোÑএকটি অনুমোদিত অস্ট্রেলীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরির অফার বা ‘স্পন্সরশিপ’ পাওয়া।

যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় আছেন, তারা পড়াশোনা শেষে সরাসরি নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ভিসায় রূপান্তর হতে পারবেন।

বাংলাদেশ থেকে যারা আবেদন করতে চান, তাদের অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার ‘অ্যাপ্রুভড স্পন্সর’ খুঁজে বের করতে হবে।

প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও চ্যালেঞ্জ

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার খবরের আড়ালে বড় ধরনের প্রতারক চক্র সক্রিয় থাকে। কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে:

ইংরেজি দক্ষতা : আইএলটিএস (ওঊখঞঝ) বা সমমানের ইংরেজি পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত স্কোর ছাড়া কোনোভাবেই অস্ট্রেলিয়ার কাজের ভিসা পাওয়া সম্ভব নয়। কেউ যদি ইংরেজি ছাড়া ভিসার গ্যারান্টি দেয়, তবে সেটি নিশ্চিতভাবে প্রতারণা।

সরাসরি লেনদেন বর্জন : শুধু টাকার বিনিময়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া যায় না। সঠিক যোগ্যতার প্রমাণ এবং সরকারি ফির বাইরে কোনো গোপন লেনদেন থেকে বিরত থাকতে হবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

অস্ট্রেলিয়া যেখানে স্টুডেন্ট ভিসা বর্তমানে কঠোর করছে, সেখানে কর্মভিসা সহজ করার এই প্রস্তাবটি মূলত দক্ষ জনবল ধরে রাখার একটি কৌশল। যারা কৃষি, নির্মাণ বা টেকনিক্যাল কাজে দক্ষ, তাদের জন্য ২০২৬ সাল হবে অস্ট্রেলিয়ায় থিতু হওয়ার সেরা সময়।