ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সিঙ্গাপুর

স্বাস্থ্যকর্মীর অপার সম্ভাবনা

প্রবাস প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

আমাদের দেশে প্রতি বছর বিশ হাজারের অধিক রেজিস্ট্রার্ড নার্স ও মিডওয়াইফ তৈরি হচ্ছে। এই বিশাল জনশক্তিকে বৈশ্বিক মানের দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলতে পারলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপালের মতো আমরাও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সফল হতে পারি। ২০২৬ সালের বর্তমান বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি নার্সদের জন্য সিঙ্গাপুরসহ উন্নত দেশগুলো এক উজ্জ্বল গন্তব্য। বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ নার্সদের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশে দক্ষ নার্সদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় সুযোগ। বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক নার্স বিদেশে প্রেরণের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের জোয়ার আসতে পারে।

সিঙ্গাপুরে নার্সিং চাকরির সুযোগ ও আকর্ষণীয় বেতন

২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরে স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা চরমে পৌঁছেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় (গঙঐ) এবং বিভিন্ন হেলথকেয়ার ক্লাস্টার বিদেশি নার্সদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করেছে।

বেতন কাঠামো : সিঙ্গাপুরে একজন রেজিস্ট্রার্ড নার্স (জঘ) মাসিক গড়ে ৩,৮০০-৫,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৩,৩০,০০০- ৪,৪০,০০০ টাকা) আয় করতে পারেন। অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে এই আয় আরও বেশি।

অন্যান্য সুবিধা : উন্নত আবাসন ব্যবস্থা, চিকিৎসা সুবিধা এবং নির্দিষ্ট সময় পর স্থায়ী বসবাসের (চজ) আবেদনের সুযোগ সিঙ্গাপুরকে নার্সদের জন্য সেরা গন্তব্যে পরিণত করেছে।

সিঙ্গাপুরে আবেদন প্রক্রিয়া ও এসএনবি (ঝঘই) রেজিস্ট্রেশন

সিঙ্গাপুরে নার্স হিসেবে কাজ করতে হলে সরাসরি কোনো এজেন্টের মাধ্যমে না গিয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা নিরাপদ:

ঝঘই অনুমোদন : আবেদনকারীকে অবশ্যই সিঙ্গাপুর নার্সিং বোর্ড (ঝঘই)-এর কাছে নিবন্ধন করতে হয়। এর জন্য স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে নার্সিং ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা থাকা বাধ্যতামূলক।

লাইসেন্স পরীক্ষা : এসএনবির অধীনে একটি লিকেনসার বা যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। পরীক্ষার অনুমোদনের জন্য আগে সিঙ্গাপুরের কোনো হাসপাতালের নিয়োগপত্র (ঙভভবৎ খবঃঃবৎ) থাকা প্রয়োজন।

নিয়োগকর্তা স্পনসরশিপ : সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলো যোগ্য প্রার্থীদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা (ঝ চধংং বা ঊ চধংং) স্পনসর করে থাকে।

বাংলাদেশি নার্সদের বিদেশে আগ্রহী করতে করণীয় : আমাদের নার্সদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:

আন্তর্জাতিক পরীক্ষা কেন্দ্র : ঘঈখঊঢ বা প্রোমেট্রিক (চৎড়সবঃৎরপ) পরীক্ষা কেন্দ্র বাংলাদেশে স্থাপন করা। বর্তমানে এসব পরীক্ষার জন্য অনেককে বিদেশে যেতে হয়, যা ব্যয়বহুল।

ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ : সরকারি উদ্যোগে আইইএলটিএস (ওঊখঞঝ), জাপানি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার কোর্স চালু করা।

জি-টু-জি (এ২এ) নিয়োগ : সিঙ্গাপুর, জাপান ও জার্মান সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা।

সহজ শর্তে ঋণ : নার্সদের বিদেশ যাওয়ার প্রাথমিক খরচ মেটাতে ভর্তুকিসহ বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করা।

আমাদের নার্সরাও ভারত বা ফিলিপাইনের নার্সদের মতোই দক্ষ ও পরিশ্রমী। শুধু সদিচ্ছা ও সরকারি সহযোগিতা পেলে নার্সিং খাত থেকে বছরে ২০,০০০ নার্স বাইরে পাঠানো সম্ভব। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন নার্সরা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন, অন্যদিকে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনীতি হবে আরও শক্তিশালী।