ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রোমানিয়ায় সুযোগের হাতছানি  

প্রবাস প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

ইউরোপের উদীয়মান অর্থনীতির দেশ রোমানিয়া বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচন করেছে। ২০২৬ সালে দেশটির সরকার প্রায় এক লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা ঘোষণা করেছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে টাইপ ডি (ঞুঢ়ব উ) বা দীর্ঘমেয়াদি ভিসাটি এখন বাংলাদেশিদের কাছে সবচেয়ে কাক্সিক্ষত, কারণ এটি মূলত কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়। রোমানিয়া এখন আংশিকভাবে শেনজেন জোনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ ভিসার মাধ্যমে ইউরোপের মূল ধারায় প্রবেশের পথ অনেক সহজ হয়ে গেছে। সঠিক নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বৈধ টাইপ ডি/এএম (উ/অগ) ওয়ার্ক পারমিট থাকলে বর্তমানে ভিসা পাওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।

বাংলাদেশিদের জন্য বেতন ও জীবনযাত্রার মান বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য রোমানিয়ার শ্রমবাজার অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠছে। একজন কর্মী সেখানে সাধারণত ৮০০ থেকে ১০০০ ডলার বা সমপরিমাণ ইউরো বেতন পান, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ লাখ টাকার উপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বিনা মূল্যে আবাসন এবং যাতায়াত সুবিধা প্রদান করে থাকে, ফলে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশই সঞ্চয় করা সম্ভব হয়। এ ছাড়া টাইপ ডি ভিসার অধীনে সেখানে পৌঁছানোর পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে টেম্পোরারি রেসিডেন্স কার্ড বা টিআরসি পাওয়া যায়। এই কার্ডটি থাকলে কর্মী হিসেবে আপনি ইউরোপের অন্যান্য শেনজেনভুক্ত দেশে যাতায়াতের আইনি অধিকার পাবেন, যা এই ভিসার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

আবেদন প্রক্রিয়া ও গমনের  সুনির্দিষ্ট নিয়ম

রোমানিয়া যাওয়ার মূল প্রক্রিয়াটি শুরু হয় যখন রোমানিয়ার কোনো কোম্পানি আপনার জন্য সেদেশের ইমিগ্রেশন অফিস (ওএও) থেকে একটি অনুমোদিত ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করে। 

এই পারমিটটি আসার পর আপনাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হয়। যেহেতু বর্তমানে বাংলাদেশে রোমানিয়ার পূর্ণাঙ্গ কোনো দূতাবাস নেই, তাই এই টাইপ ডি ভিসার স্টিকার সংগ্রহ করতে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত রোমানিয়া দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। 

তবে ২০২৬ সালে কিছু বিশেষ এজেন্সির মাধ্যমে ড্রপ-বক্স সুবিধা ব্যবহার করে আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়াটিও আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজতর করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ভিসা স্ট্যাম্পিং

ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য আপনার মূল পাসপোর্ট, ওয়ার্ক পারমিটের আসল কপি, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ দেখাতে হয়। টাইপ ডি ভিসার ক্ষেত্রে দূতাবাস সাধারণত প্রার্থীর কাজের দক্ষতা এবং ইংরেজি ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান যাচাই করে থাকে। বিশেষ করে আপনার নিয়োগকর্তার নাম, কাজের ধরন এবং মাসিক বেতন কতÑএই বিষয়গুলো ইন্টারভিউতে স্পষ্টভাবে বলতে পারলে ভিসা প্রাপ্তি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ভিসা ইস্যু হওয়ার পর এটি সাধারণত ৯০ দিনের জন্য বৈধ থাকে, যার মধ্যে আপনাকে রোমানিয়ায় প্রবেশ করে পরবর্তী রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।

সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

রোমানিয়া যাত্রায় প্রতারণা এড়াতে সবসময় সরকারি রিক্রুটিং লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যোগাযোগ করা উচিত। আপনার হাতে আসা টাইপ ডি ভিসার ওয়ার্ক পারমিটটি আসল কি না তা রোমানিয়া ইমিগ্রেশনের অনলাইন পোর্টালে পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে সহজেই যাচাই করা সম্ভব। 

দালালের মাধ্যমে সরাসরি টাকা লেনদেন না করে প্রতিটি ধাপ বুঝে অগ্রসর হওয়া নিরাপদ। মনে রাখবেন, রোমানিয়া এখন ইউরোপের অন্যতম সুশৃঙ্খল শ্রমবাজার, তাই আপনার সকল নথিপত্র যদি 

সঠিক এবং আইনিভাবে সত্যায়িত থাকে, তবে এই ভিসার মাধ্যমে আপনার ইউরোপে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্নটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত।