ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সোয়াপ ভিসা

অভিবাসনের নিরাপদ গন্তব্য ব্রুনাই

প্রবাস প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১২:৫২ এএম

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শান্ত ও সমৃদ্ধ দেশ ব্রুনাই বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। বিশেষ করে ঝঅডচ (ঝঢ়বপরধষ অঁঃযড়ৎরুধঃরড়হ ডড়ৎশ চধংং) ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে যাওয়া এখন অনেক বেশি নিরাপদ। আপনার যদি দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে কাজের জন্য তাহলে ব্রুনাই হতে পারে অন্যতম গন্তব্য। অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্রুনাইতে যাওয়ার কিছু প্রধান কারণগুলো হলো; ব্রুনাই বিশ্বের অন্যতম শান্ত ও নিরাপদ দেশ। এখানে অপরাধের হার শূন্যের কোঠায়। ফলে প্রবাসী কর্মীরা কোনো ধরনের সামাজিক বা নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়াই নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন। ব্রুনাইয়ে আয়ের ওপর কোনো ব্যক্তিগত আয়কর দিতে হয় না। থাকার খরচ কোম্পানি বহন করায় আপনার বেতনের প্রায় পুরোটাই সঞ্চয় করা সম্ভব, যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দ্রুত নিশ্চিত করে। ব্রুনাইয়ের আবহাওয়া বাংলাদেশের মতোই উষ্ণ ও আর্দ্র, যা বাংলাদেশিদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক। এছাড়া দেশটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং উন্নত অবকাঠামো আপনার জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করবে। মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় ব্রুনাইয়ে ইসলামিক সংস্কৃতি ও হালাল খাবারের প্রাচুর্য রয়েছে। প্রচুর মসজিদ এবং ধর্মীয় মিল থাকায় বাংলাদেশিরা সেখানে খুব দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন।

ঝঅডচ ভিসার বিশেষ সুযোগ-সুবিধাসমূহ

নিশ্চিত আবাসন ও যাতায়াত

ঝঅডচ ভিসার আওতায় আসা কর্মীদের জন্য কোম্পানি উন্নত ডরমিটরি বা থাকার রুম নিশ্চিত করে। এ ছাড়া কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য কোম্পানির নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকে, যা কর্মীদের খরচ ও ভোগান্তি কমায়।

নিয়মিত বেতন ও ওভারটাইম সুবিধা

কাজের ধরন অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক বেতন নিয়মিত প্রদান করা হয়। এ ছাড়া নির্ধারিত ডিউটির বাইরে অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইম (ঙঞ) সুবিধা থাকে, যা মাসিক আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিশ্চয়তা

প্রাথমিকভাবে ২ বছরের ভিসা হলেও কর্মীর দক্ষতা ও আচরণের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানি বারবার ভিসা নবায়ন করে। অনেক বাংলাদেশি সেখানে ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা ও বিমা

প্রত্যেক কর্মীর জন্য কোম্পানি স্বাস্থ্য বিমা নিশ্চিত করে। কাজ চলাকালীন অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোম্পানি সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে।

ব্রুনাই যাওয়ার ধাপগুলো

ধাপ ১ : অফার লেটার বা নিয়োগপত্র সংগ্রহ

প্রথমেই ব্রুনাইয়ের কোনো নিবন্ধিত কোম্পানি থেকে আপনার পদের নাম ও বেতন উল্লেখ করা একটি অফার লেটার সংগ্রহ করতে হবে।

ধাপ ২ : স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ব্রুনাই দূতাবাস অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে ‘ফিট’ সার্টিফিকেট নিতে হবে।

ধাপ ৩ : ইমিগ্রেশন এপ্রুভাল

আপনার পাসপোর্ট ও মেডিকেল রিপোর্ট ব্রুনাই ইমিগ্রেশনে পাঠানো হবে। সেখান থেকে ‘স্পেশাল অথরাইজেশন’ বা ল্যান্ডিং পারমিট আসলে আপনার ভিসা নিশ্চিত হবে।

ধাপ ৪ : বিএমইটি (ইগঊঞ) ও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ

বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি ব্যুরো (ইগঊঞ) থেকে আঙুলের ছাপ দিয়ে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স বা স্মার্ট কার্ড নিতে হবে, যা প্রবাস যাত্রার বৈধতা নিশ্চিত করে।

ধাপ ৫ : টিকিট ও চূড়ান্ত যাত্রা

ভিসা ও স্মার্ট কার্ড পাওয়ার পর বিমানের টিকিট নিশ্চিত করতে হবে। ব্রুনাই পৌঁছানোর পর কোম্পানির প্রতিনিধি আপনাকে বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে কর্মস্থলে নিয়ে যাবে।