ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিদেশে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ

দক্ষতা বাড়াবে প্রবাসে আয়ের নিশ্চয়তা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০৬:৫৩ এএম

বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন? তবে অদক্ষ হয়ে বিদেশ যাওয়া মানেই বিড়ম্বনা এবং স্বল্প আয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ গেলে একদিকে যেমন আয়ের সুযোগ বাড়ে, অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রেও সম্মান নিশ্চিত হয়। আপনার বিদেশ যাত্রাকে সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের আদ্যোপান্ত নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই লেখা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রীনা আখতার জাহান

দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা ও লক্ষ্য

দেশের একটি বড় অংশ নানা কারণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় না। এই স্বল্পশিক্ষিত ও ঝরে পড়া জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদের বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। অভিজ্ঞরা জানান, কাজ শিখে বিদেশে গেলে একজন কর্মী সাধারণ শ্রমিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বেতন পেতে পারেন। বর্তমানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে সারা দেশে ৩৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির কার্যক্রম চলছে।

বিদেশের বাজারে চাহিদাসম্পন্ন কারিগরি বিষয়সমূহ : বৈদেশিক বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে বহুমুখী কোর্স চালু রয়েছে। নির্মাণ শিল্পের জন্য টাইলস ফিক্সিং, রড বাইন্ডিং, শাটারিং ও পাইপ ফিটিং বেশ জনপ্রিয়। যান্ত্রিক ও কারিগরি কাজের মধ্যে ওয়েল্ডিং, অটো মেকানিকস ও ইকুইপমেন্ট অপারেটিং শেখার সুযোগ আছে। এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল মেশিন মেইনটেন্যান্স, রেফ্রিজারেশন ও এসি মেকানিকস এবং ইলেকট্রনিকস কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যারা পোশাক খাতে কাজ করতে চান তারা সুইং মেশিন অপারেটিং বা প্যাটার্ন মেকিং শিখতে পারেন। এর পাশাপাশি হাউসকিপিং ও কম্পিউটারের মতো বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ভর্তির যোগ্যতা ও সময়সীমা : কারিগরি এসব কোর্সে ভর্তির প্রক্রিয়া বেশ সহজ রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ সুযোগ পায়। অধিকাংশ কোর্সে ভর্তির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় অষ্টম শ্রেণি পাস, তবে বিশেষ কিছু টেকনিক্যাল ট্রেডের ক্ষেত্রে এসএসসি পাসের প্রয়োজন হতে পারে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না, কারণ সারা বছরই এখানে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কোর্স চালু থাকে। সাধারণত একটি কোর্স শেষ হওয়ার পরপরই নতুন কোর্সের ভর্তির বিজ্ঞপ্তি জাতীয় পত্রিকা ও কেন্দ্রের নিজস্ব নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়।

কোর্সের মেয়াদ ও স্বল্প খরচ : প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মূলত দুই ধরনের কোর্স থাকে। নিয়মিত কোর্সগুলো সাধারণত দিনের বেলা পরিচালিত হয় এবং ৬ মাসের কোর্সের জন্য সরকারি ফি মাত্র ৫৭৪ টাকা। অন্যদিকে যারা সময় বাঁচাতে চান বা বিকেলে ক্লাস করতে আগ্রহী, তাদের জন্য রয়েছে স্বনির্ভর কোর্স। ২ মাসের এই স্বনির্ভর কোর্সের ফি প্রায় ১৯৭৪ টাকার মতো হয়ে থাকে। তবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ট্রেড ভেদে এই ফি কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

বিদেশের মাটিতে টিকে থাকতে ভাষা শিক্ষা : যেকোনো দেশে কাজ করতে গেলে সেই দেশের ভাষা জানা থাকাটা জীবন ও জীবিকা দুটোর জন্যই জরুরি। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষার অন্তত ৩০০টি প্রয়োজনীয় শব্দ শেখানো হয় যাতে কর্মীরা প্রাথমিক কথাবার্তা চালিয়ে নিতে পারেন। তবে উচ্চতর ভাষা শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের মতো প্রতিষ্ঠানেও কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে ভাষা শেখার খরচ দুই থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

নিরাপদ বিদেশ যাত্রা ও পরামর্শ : বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা এড়াতে সবসময় সরকার অনুমোদিত বৈধ এজেন্সির সহায়তা নেওয়া উচিত। বিএমইটির ডাটাবেজে নাম নিবন্ধন করা এখন বাধ্যতামূলক এবং বৈধ এজেন্সির তালিকা বিএমইটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। মনে রাখতে হবে, শুধু বিদেশ যাওয়াই শেষ কথা নয়, দক্ষ হয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার হাতের কাজই বিদেশের মাটিতে আপনার বড় পরিচয় এবং বেশি আয়ের আসল চাবিকাঠি।

লেখক : অধ্যক্ষ, কেরানীগঞ্জ টিটিসি।