পাকিস্তানের ছোট পর্দায় অল্প সময়েই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম। অভিনয় দক্ষতা, রূপ ও গ্ল্যামারে কোটি ভক্তের মন জয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত ‘সানওয়াল ইয়ার পিয়া’ আলোচনার ঝড় উঠেছে। ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করে আলাদা নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী। এটি টেলিভিশনের পাশাপাশি ইউটিউবেও সাড়া ফেলেছে। দুরেফিশানকে এ মুহূর্তে পাকিস্তানের ছোট পর্দার সম্রাজ্ঞী হিসেবে অভিহিত করা যায় অনায়াসেই। কারণ, তার উপস্থিতি অভিনীত সিরিয়ালটিকে খুব সহজেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। আমাদের এখানেও তাকে ঘিরে দর্শক অনুরাগীদের ক্রেজ, সেনসেশন সৃষ্টি হয়েছে আরও আগেই। গত ১৪ জানুয়ারি ৩০-এ পা রাখা মেধাবী তন্বী অভিনেত্রী এই মুহূর্তে পাকিস্তানের শোবিজে উচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া সবচেয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। হালে দুরেফিশান অভিনীত নতুন টিভি সিরিয়াল ‘খইয়ি’ নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। এখানে এক পশতুন মেয়ে জামদা চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। রিভেঞ্জ থ্রিলার ধাঁচের এই সিরিয়ালে তার পারফরমেন্স বাজিমাত করেছে। হালে শুরু হওয়া আরেকটি নতুন উর্দু সিরিয়াল ‘সানওয়াল ইয়ার পিয়া’য় একজন কলেজে পড়ুয়া তরুণী পিয়া চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি নতুন বছরে দুরেফিশান অভিনীত নতুন আরেকটি ফ্যামিলি ড্রামা সিরিয়াল ‘দার এ নিজাত’ শুরু হয়েছে।
চমৎকার স্ক্রিপ্ট, পারিবারিক সেন্টিমেন্ট, নামিদামি তারকা শিল্পীদের অভিনয় সমৃদ্ধ সিরিয়ালটি নিয়ে বিশেষ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ‘ইশক মুর্শিদ’, ‘ক্যায়সি তেরি খুদগারজি’, ‘জ্যায়সি আপ কি মর্জি’র মতো ব্লকবাস্টার উর্দু টিভি সিরিয়ালের প্রধান নারী চরিত্রে দেখেছেন দর্শক। যেখানে তার চমৎকার প্রাণবন্ত পর্দা উপস্থিতি সব বয়সি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে খুব সহজেই। দুরেফিশান অভিনীত আরও অন্যান্য টিভি সিরিয়ালের মধ্যে রয়েছে ‘পরদেশ’, ‘জুরম’, ‘জুদা হুয়ে কুচ ইস তারা’, ‘সিয়াহ’, ‘জ্যায়সি আপকি মর্জি’ প্রভৃতি। তার অভিনয় যেমন সুন্দর, তেমনি মনকাড়া। তার আকর্ষণীয় রুচিস্নিগ্ধ লাবণ্যময় চেহারা, অপূর্ব ছিমছাম সুন্দর ফিগার সবই খুব দ্রুত দর্শকদের আলোড়িত করে। তার অসাধারণ অভিনয়ের পাশাপাশি শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে ভক্ত-অনুরাগী দর্শক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও, কেউ কেউ তার কিছুটা ভারি শরীর নিয়ে সমালোচনা করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি ফিটনেস বলতে অন্য অনেক অভিনেত্রীর মতো স্লিম ফিগারটাকে বুঝি না। আমার কাছে ফিটনেস হলো সুস্বাস্থ্য এবং মনে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারাটা। আমার শরীরের গঠন গড়পড়তা পাকিস্তানি আট-দশজন সাধারণ মেয়েদের মতো। আমি যে চরিত্রগুলো রূপায়ণ করে থাকি সেগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য এমন শারীরিক গঠন যথার্থ বলে মনে করি। আমি কেন স্লিমট্রিম ফিগার নিয়ে পর্দায় আসি না, যারা বলেন তাদের উদ্দেশ্য বলতে চাই, আমি আমার এই ফিগার নিয়ে সন্তুষ্ট। আমি নিজে একজন পাঞ্জাবি মেয়ে। সাধারণত পাঞ্জাবি মেয়েরা একটু হেলদি, মানে স্থূলকায়া হয়ে থাকে।
আমিও তাই।’ দুরেফিশানকে সাধারণত পরিবারিক ঘরোয়া আবহের গল্পে সাধারণ মেয়ের চরিত্রে বেশি দেখা যায়। পাকিস্তানের লাহোরে জন্ম তার। তার বাবা সালিম উল হাসান পাকিস্তান টেলিভিশনে একজন প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন একসময়। দুরেফিশান লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি নিয়েছেন। এরপর ২০১৯ সালে মডেলিং ও অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়তে করাচি চলে আসেন। ২০২০ সালে প্রথম অভিনয়ে অভিষেক হয়েছিল ‘দিলরুবা’ সিরিয়ালে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। একই বছর ফ্যামিলি ড্রামা সিরিয়াল ‘বাহারাস’-এ প্রধান নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল তার। যেখানে তিনি সবার মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হয়েছিলেন।
এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হাম অ্যাওয়ার্ড-এ ভূষিত সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন দুরেফিশান। জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ‘ইশক মুর্শিদ’-এ একজন দৃঢ়চেতা ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার তরুণী শিবরাহ চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে লাখো কোটি হৃদয়ে ঝড় তোলার পাশাপাশি এ সিরিয়ালে তার নায়ক অভিনেতা বিলাল আব্বাস খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তারা বিয়ে করতে চলেছেন বলে খবর রটেছে। তবে দুরেফিশান সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘এসবের কোনো ভিত্তি নেই। সব মিথ্যা, বানোয়াট গল্প।’

