ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গানে আমার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, পুরোপুরি গড-গিফটেড

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৬:০১ এএম

কেমন আছেন?

আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আশা করি আপনিও ভালো আছেন।

নতুন গান প্রকাশ পেয়েছে, কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

হ্যাঁ, আমার নতুন গান ‘চাঁদ বদনে’ প্রকাশ পেয়েছে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেলে। আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত সাড়া খুবই ভালো। টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শ্রোতারা গানটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। অনেকেই গানটির কথা ও সুরের প্রশংসা করছেন, যা একজন শিল্পী হিসেবে আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করছে।

গানের পেছনের গল্পটা যদি জানাতেন...

আমি একজন গায়ক হওয়ার আগে একজন গীতিকার এবং কম্পোজার। সাধারণত আমার গানের কথাগুলো আমি নিজেই লিখি এবং সুরও নিজেই করি। শুধু মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টের কাজটি করেন শোভন রায়। গান লেখার ক্ষেত্রে আমি বাস্তব জীবনকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিই। চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা, অনুভূতি আর অভিজ্ঞতা থেকেই মূলত গানের কথা আসে। ‘চাঁদ বদনে’ গানটিও বাস্তব জীবনের একটি গল্প থেকে অনুপ্রাণিত। তবে এর সঙ্গে একটি গোপন গল্প জড়িয়ে আছে, যেটা এই মুহূর্তে প্রকাশ করতে চাই না। সেই গল্পের আবহেই গানটির কথা ও সুর তৈরি হয়েছে।

অডিওর পাশাপাশি চিত্তাকর্ষক ভিডিওসহ গানটি প্রকাশ পেয়েছে। শুটিং অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

সত্যি বলতে, শুটিং অভিজ্ঞতা ছিল বেশ ভয়াবহ! ভিডিওটির পরিচালক ছিলেন হাসান রনি। আমরা শুটিং করেছি কুয়াকাটায়। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল ঢাকায় শুট করার, কিন্তু পরে মনে হলো সমুদ্রের পাশে করলে ভিজ্যুয়ালি গানটি আরও ভালো ফুটে উঠবে। আমাদের পরিকল্পনায় ছিল সমুদ্র আর গ্রামীণ পরিবেশÑ এ দুইয়ের সমন্বয় দেখানো। যেহেতু তখন ছিল শীতকাল, কুয়াশা ছিল ভয়াবহ। প্রচ- ঠান্ডার মধ্যে আমাদের শুটিং করতে হয়েছে, যা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। তবে সব কষ্ট সার্থক হয়েছে, কারণ শেষ পর্যন্ত আমরা একটি সুন্দর আউটপুট পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

আপনি গানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েছিলেন কি?

সত্যি বলতে, গানে আমার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। পুরোটাই গড-গিফটেড বলা যায়। তবে আমি ছোটবেলা থেকেই গানের পরিবেশে বড় হয়েছি। আমার বাবা খুব ভালো গান করেন। ছোটবেলায় বাসায় আড্ডা বসলে আত্মীয়স্বজন আসতেন, তখন কাওয়ালিসহ নানা রকম গান হতো। সেই পরিবেশ থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আর ধীরে ধীরে এ পথেই এগিয়ে আসা।

শুরু থেকে এ পর্যন্ত আসার পথে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মুহূর্ত কী ছিল?

আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। সব সময় ভাবি, আরও ভালো কীভাবে করা যায়, আগের কাজের চেয়ে কীভাবে বেটার হওয়া যায়। প্রতিটি নতুন গান যেন আগের গানকে ছাড়িয়ে যায়Ñ এই চিন্তাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরের গানটি কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই ভাবনাই আমাকে সব সময় তাড়িত করে।

গানে কাউকে আইডল মানেন?

দেশ-বিদেশের অনেক শিল্পীর গান থেকেই আমি অনুপ্রেরণা পাই। তবে আইডল বলতে গেলে আমাদের দেশের হাবিব ভাইকে আমি খুব ফলো করি। ওনাকে আমি আমার আইডল হিসেবে দেখি।

সামনে ১৪ ফেব্রুয়ারি, নতুন কোনো গান আসছে কি?

না না, ১৪ ফেব্রুয়ারিতে আমার কোনো গান আসছে না। দেশে অনেক রোম্যান্টিক গানের শিল্পী আছেন, তারা গান গাইবেন, আমরা শ্রোতা হিসেবে উপভোগ করব। তবে আমার অনেকগুলো গান লেখা আছে। সেগুলো ধীরে ধীরে আমার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাবে।

গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

গানে আমি নিজেকে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। চাই সবাই আমাকে চিনুক, সবাই আমাকে মনে রাখুক। আমার স্বপ্ন, আমি যখন এই পৃথিবীতে থাকব না, তখনো যেন পরবর্তী প্রজন্ম আমার গান শুনে অনুপ্রাণিত হয় এবং আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।