২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারের ময়দানে অন্যতম সক্রিয় মুখ ছিলেন অভিনেত্রীÑ সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রোড শো, জনসভা, দলীয় কর্মসূচিÑ সবই ছিল তার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। তৃণমূলের হয়ে জোরকদমে প্রচার চালিয়েছেন তিনি।
কিন্তু ভোট গণনার দিন সকাল থেকেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। ট্রেন্ড স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছিল রাজনৈতিক পালাবদলের। বিকেলের দিকে তা আরও পরিষ্কার হয়ে যায়Ñ বিজেপির দিকে ঝুঁকে জনমত। এই পরিস্থিতিতে ফলাফল নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় খোলাখুলি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন।
তার কথায়, ‘কিছু করার নেই। এটা মানুষের রায়। মানুষ যাকে ভোট দেবে, সেটাই মেনে নিতে হবে। আমরা তো মঞ্চে দাঁড়িয়ে সবসময় বলি, ভোট আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকারÑ আপনার যাকে ইচ্ছে তাকে ভোট দেবেন। আমরা বরাবরই বলেছি, উন্নয়নের নিরিখে ভোট দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি মানুষ বাংলার মাটিতে বিজেপিকে আনতে চান, সেটা তাদের মতামত। সেই মতামতকে সম্মান জানিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এই জায়গায় হিংসা, মারামারি, অফিস ভাঙচুরÑ এসব একেবারেই ঠিক নয়। যা হয়েছে, সেটাকে মেনে নেওয়াই উচিত।’
নিজের দায়িত্বের কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। বলেন, ‘আমি এখনো সাংসদ। আমায় কাজ করে যেতে হবে। আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদÑ এই সম্মান রক্ষা করাই আমার কর্তব্য। মানুষ আমায় ভোট দিয়ে পাঠিয়েছেন কিছু আশা নিয়ে, তাই তাদের জন্য কাজ করে যাওয়া আমার দায়িত্ব। যদি বিজেপি সরকার থাকে, তা হলেও তাদের সঙ্গেই সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। আমি কোনোভাবেই হিংসার রাজনীতি সমর্থন করি না।’
ফলাফল যাই হোক, গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা এবং দায়িত্ববোধÑ এই দুইয়ের উপরেই জোর দিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও মানুষের রায়কে সম্মান জানানো এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন