টালিউডের বাণিজ্যিক সিনেমার সফলতম পরিচালকের নামগুলোর তালিকায় তিনি প্রথম সারিতে। তার হাত ধরে বদলে গিয়েছিল বাংলা সিনেমার চেনা সমীকরণ। দিন বদলে সেই রাজ চক্রবর্তী কেবল ক্যামেরার নেপথ্যের কারিগর ছিলেন না, ছিলেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম তারকাপ্রার্থী মুখ। যার হাতে দ্বিতীয়বার ব্যারাকপুরের দায়িত্ব সঁপেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ২০২১-এ বিধানসভায় রাজ তারকা প্রার্থী হলেও, এবারটি রাজ নিজেকে তারকা নয়, বরং বিধায়ক হিসেবেই প্রচার করতে চেয়েছিলেন। করেও ছিলেন। কিন্তু ভোটের ফলাফলে সব অঙ্কই বদলে গেল। বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে হার মানতে হল রাজকে। বারাকপুরের এতদিনের রাজের রাজত্বের অবসান ঘটল।
পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে ধরাশায়ী হওয়ার পর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ চক্রবর্তী। ২০২১ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন এই পরিচালক। সেবার জিতে পাঁচ বছর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন রাজ। কিছু দিন আগে ‘লক্ষ্মীর ভা-ার’ তথ্যচিত্রের পরিচালনাও করেছিলেন তিনি। তবে এ বছর নির্বাচনে তিনি পুরোনো কেন্দ্রে ফের দাঁড়ালও হেরে যান। ফল বেরনোর দুদিন পরে নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়ে ইতি টানার কথা বললেন পরিচালক।
ভোটে পরাজয়ের পর রাজের স্ত্রী তথা অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, তাকে সুপারহিরো তকমা দিয়ে ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ ছিলেন চুপ। তবে অবশেষে নিস্তব্দতা ভাঙলেন রাজ। সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট করলেন তার মনের কথা।
ব্যারাকপুরের বিদায়ী বিধায়ক রাজ বলেছেন, ‘জীবনে যখনই কোনো দায়িত্ব পেয়েছি নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করেছি। একজন পরিচালক হিসেবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সবসময় আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কখনো হেরেছি আবার কখনো জিতেছি। ২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ। মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পাঁচ বছর ধরে সেই ভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গিয়েছি। সেই অধ্যায় শেষ হল ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হল আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।’
একই সঙ্গে বিজেপিকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন রাজ। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলার মানুষের মতামতে নতুন সরকার এসেছে। আজ তারা শপথ নেবেন। তাদের জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করব, আপনাদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে উন্নতির পথে। মানুষের সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে। সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।’
ভোটের সময় ব্যারাকপুরে রাজনের রোড শো ঘিরে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা, কিন্তু ফল ঘোষণার দিন গণনাকেন্দ্র থেকে বেরনোর সময় ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। অভিযোগ, তাকে লক্ষ্য করে কাদা ও গোবরও ছোড়া হয়।
তার পরে অবশ্য রাজের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পরাজয়ের পরেই তার স্ত্রী অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন। তাতে শুভশ্রী বলেছিলেন, রাজই তাদের জীবনের নায়ক। এই পরাজয়ে যাতে কোনোভাবেই পরিচালকের মনোবল ভেঙে না দিতে পারে সেই ইঙ্গিতই মিলেছিল নায়িকার লেখায়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন