যশোরের চৌগাছায় জামায়াতের নারীকর্মীদের হেনস্তার পৃথক দুই ঘটনায় বিএনপির ছয় কর্মীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। গতকাল রোববার কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সিভিল জজ গোলাম রসুল পৃথক দুই মামলার শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চারজনকে ১০ হাজার টাকা করে এবং দুইজনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার অভিযোগ দুটি আমলে নিয়ে গতকাল অভিযুক্ত সাতজনকে সশরীরে সামারি ট্রায়ালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর ধুলিয়ানী ইউনিয়নের দুই ওয়ার্ডের মুক্তারপুর গ্রামের সাধারণ নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী মো. ইব্রাহিম হোসেন, লিয়াকত আলী, মো. শিমুল হোসেন, কবির হোসেন হামলা চালিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে মোবাইল ফোন, খাতা এবং কাগজপত্রাদি কেড়ে নেয়।
এ ঘটনায় মামলা হলে অভিযুক্তদের নির্বাচন-সংক্রান্ত অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে (যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত অভয়নগর সিভিল জজ আদালত) হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গতকাল অভিযুক্তরা আদালতে হাজির হলে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় মো. ইব্রাহিম হোসেন, মো. শিমুল হোসেন, কবির হোসেনকে ১০ হাজার করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং লিয়াকত আলীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একইদিনে দ্বিতীয় মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮ নম্বর হাকিমপুর ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডের মাঠচাকলা গ্রামের সাধারণ নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে পুরাতন মসজিদ এলাকায় অভিযুক্ত মো. শাহাবদ্দীন, মুকুল ও মন্টু রহমান জামায়াতের নারীকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে মোবাইল ফোন, খাতা এবং কাগজপত্রাদি কেড়ে নেয়। রোববার সশরীরে ট্রায়ালে শুনানি শেষে মো. শাহাবুদ্দীনকে ১০ হাজার টাকা এবং মুকুল ও মন্টু রহমানকে ৫ হাজার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন