বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় ধানের তুলনায় স্বল্প খরচ ও অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে যমুনা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় চোখে পড়ে ভুট্টার আবাদ। পুরো উপজেলাজুড়ে এখন কৃষকরা ভুট্টা জমিতে সেচ, বীজ বপন, নিড়ানি এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৩৭৬ হেক্টর। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বর্তমানে ৮ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে, যা এখনো চলমান। এর মধ্যে চরাঞ্চলেই প্রায় ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর বেশি জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে।
সাধারণত বীজ বপনের চার মাসের মধ্যেই ভুট্টা ঘরে তোলা যায়। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ মেট্রিক টন বা প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৫০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের পারতিতপরল গ্রামের কৃষক মো. শাহিদ পারভেজ মিঠুন বলেন, ‘আমি পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। কৃষি অধিদপ্তরের নিয়ম মেনে চাষ করতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি প্রায় ৩০ হাজার টাকার ভুট্টা পাব। পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্যও সংগ্রহ করতে পারব। ধানের তুলনায় ভুট্টা অনেক বেশি লাভজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই জমিতে ধান চাষ করলে ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হতো এবং ৭ থেকে ৮ মণ ধান পাওয়া যেত। খরচ আর আয় প্রায় সমান হয়ে যেত। তাই ভুট্টাই লাভজনক।’
একই গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ‘আমি ১০ শতাংশ জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। বীজে ৭০০ টাকা, সার বাবদ ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং সেচে ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। আশা করছি ১০ থেকে ১২ মণ ভুট্টা পাব।’
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তাই উপজেলায় দিন দিন ভুট্টার আবাদ বাড়ছে। এ বছর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে।’
তিনি জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে ভুট্টার রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে কৃষকদের সহায়তা করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন