বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের একসময়ের মৃতপ্রায় ‘চিলু মাঝি খাল’ পুনঃখননের ফলে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। কচুরিপানা আর আবর্জনায় ভরা যে খালটি একসময় এলাকাবাসীর দুর্গতির কারণ ছিল, আজ সেখানে বইছে জীবনের স্রোত।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ওই খালে এক প্রতীকী কর্মসূচির আয়োজন করে। দীর্ঘদিনের মরা খালে পুনরায় পানি দেখে খালের তীরে দাঁড়িয়ে গ্রামের শিশুরা মনের আনন্দে কাগজের নৌকা ভাসায়। শিশুদের এই হাততালি আর উচ্ছ্বাসই জানান দিচ্ছিল, মরা খাল এখন জীবন্ত।
জানা য়ায়, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সচেতনতার পর সরকার এই খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় প্রায় ১৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
এদিকে খালটি সচল হওয়ায় নলবুনিয়া, চিলু মাঝি, সুন্দরিয়া, তাঁতীপাড়া এবং পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া এলাকার কৃষকদের সেচ সংকট দূর হয়েছে। কৃষক জালাল মিয়া বলেন, আগে খালগুলো ডোবা-নালার মতো ছিল, মশা-মাছির উপদ্রবে টেকা যেত না। এখন খননের ফলে আমরা সবাই উপকার পাচ্ছি।
তাঁতীপাড়া গ্রামের কৃষক মো. জুয়েল জানান, আগে বছরে একবার ফসল হলেও এখন সেচের পানি থাকায় দুই থেকে তিনবার চাষ করা সম্ভব হবে, যা তাদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে এক ফসলি জমি এখন বহু ফসলি জমিতে পরিণত হবে, যা কৃষকদের জীবনমান বদলে দেবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস মনে করেন, সেচ সুবিধা বাড়ায় কৃষি উৎপাদনে গতি আসবে। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, এই উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন