ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ব্যাংকের ঋণের কথা বলে বাবার ২ একর জমি লিখে নিল ছেলে!

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

বরগুনার তালতলীতে ব্যাংকঋণের জামিনদার করার কথা বলে ৯০ বছর বয়সি বৃদ্ধ বাবার প্রায় ২ একর জমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাবা আব্দুল খালেক হাওলাদার আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই জালিয়াতির বিচার ও জমি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি অভিযুক্ত ছেলে আ. নাজমুল ইসলাম (রহিম) তার বাবাকে ব্যবসার জন্য ব্যাংকঋণ নেওয়ার কথা বলে তালতলী বন্দরের একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে ঋণের জামিনদার হিসেবে স্বাক্ষর দেওয়ার কথা বলে তাকে আমতলী সাবরেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আব্দুল খালেক হাওলাদার অভিযোগ করেন, সরল বিশ্বাসে তিনি বিভিন্ন দলিলে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, এসব দলিলকে ‘হেবা ঘোষণাপত্র’ (দানপত্র) হিসেবে ব্যবহার করে তার মালিকানাধীন ২ একর জমি রহিম নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি আব্দুল খালেক তার জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে অভিযুক্ত ছেলে রহিম বাধা প্রদান করেন এবং জমিটি তার নিজের নামে রেজিস্ট্রিকৃত বলে দাবি করেন। তখনই দলিলপত্র যাচাই করতে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি বৃদ্ধ বাবার সামনে আসে। এতে হতবাক হয়ে পড়েন বৃদ্ধ পিতা ও তার অন্য সন্তানেরা।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, ‘ছেলের কথায় বিশ্বাস করে আমি দলিলে সই করেছিলাম। সে আমাকে বলেছিল ব্যাংকের ঋণের জন্য সাক্ষী হতে হবে। সে যে আমার শেষ সম্বলটুকু এভাবে কেড়ে নেবে তা কল্পনাও করিনি।’

ভুক্তভোগীর অন্য সন্তানেরা অভিযোগ করেন, রহিম কৌশলে সবাইকে বঞ্চিত করে সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আ. নাজমুল ইসলাম রহিম বলেন, ‘বাবা স্বেচ্ছায় আমাকে জমি লিখে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত মামলার যাবতীয় খরচ আমি একাই বহন করায় বাবা খুশি হয়ে এই দানপত্র করেছেন।’ তবে বাবা জমি ফেরত চাইলে তিনি তা ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত বলেও দাবি করেন।