টাঙ্গাইল পৌরসভায় সম্প্রতি বিভিন্ন নাগরিক সেবার ফি কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পৌরবাসী। নাগরিকদের অভিযোগ, সেবার মানে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি না হলেও হঠাৎ করেই ফি বাড়ানো হয়েছে, ফলে সেবা নিতে গিয়ে বাড়তি আর্থিক চাপে পড়তে হচ্ছে তাদের।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওয়ারিশ সনদ, পারিবারিক সনদ, জমি পরিমাপসহ বিভিন্ন সেবার ফি বাড়ানো হয়েছে। আগে ওয়ারিশ সনদের জন্য মোট খরচ ছিল ২২০ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১২০ টাকায়। পারিবারিক সনদের ক্ষেত্রে ২৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৬০ টাকা। জমি পরিমাপের ফি ৩০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০০ টাকা করা হয়েছে। নাগরিক সনদের ফিও ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে।
পৌরসভার আদালতপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিদ হাসান জানান, ওয়ারিশ সনদ পেতে তাকে ১১২০ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। একইভাবে বাজিতপুর এলাকার আসলাম মিয়াও জানান, শুধু ব্যাংক চালান বাবদই তাকে ১০০০ টাকা দিতে হয়েছে, সঙ্গে ফরম বাবদ ১০০ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পৌর নাগরিক বলেন, আগে যে সেবা পেতে ২২০ টাকা লাগত, এখন সেই একই সেবার জন্য ১১২০ টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু সেবা পাওয়ার সময় ও মানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এতে নাগরিকরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।
নাগরিকদের অভিযোগ, পৌরসভার সেবার মান দীর্ঘদিন ধরেই ধীরগতির। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদ পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এমনকি স্বাস্থ্যসেবা খাত থাকলেও সেখানে কোনো মেডিকেল অফিসার নেই, ফলে কার্যত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল পৌরসভায় মোট ১৫৬টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৯৭ জন কর্মরত আছেন এবং ৫৯টি পদ শূন্য রয়েছে। কিছু পদের ক্ষেত্রে কাজের নির্দিষ্ট দপ্তরও নেই বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন জানান, জনবল ঘাটতি নেই এবং অধিকাংশ শূন্যপদের কার্যকর দপ্তর নেই। অন্যদিকে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, পূর্বে অন্যান্য পৌরসভার তুলনায় ফি কম থাকায় সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এই বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি জানান, ওয়ারিশ ও পারিবারিক সনদের ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পূর্ববর্তী সভায় নেওয়া হয়েছে।
তবে নাগরিকদের মতে, সেবার মান উন্নয়ন ছাড়া শুধু ফি বৃদ্ধি জনসেবার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা মনে করছেন, সেবার গুণগত মান নিশ্চিত না করে ফি বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

