দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নানা সমস্যায় জর্জরিত নীলফামারী পৌরসভা এক বছরের ব্যবধানে দৃশ্যমান পরিবর্তনের মুখ দেখছে। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মো. সাইদুল ইসলাম এক বছর দুই মাসের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে পৌর এলাকার চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন।
পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। শহরের বড় মাঠ এখন নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। মাঠের চারপাশে আধুনিক বসার ব্যবস্থা, গাছপালা রোপণ এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ব্যায়ামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে শতাধিক মানুষ হাঁটা ও ব্যায়াম করেন। মাঠে মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধ করায় পরিবেশও স্বাভাবিকতা ফিরে পেয়েছে। আগে যেখানে টয়লেট ব্যবস্থা ছিল না, সেখানে এখন আধুনিক শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকা এড়াতে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে অলিগলিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পাশাপাশি মশার উপদ্রব কমাতে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পৌর শিশুপার্ক, যা এ জেলায় প্রথম। শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে টেরাকোটায় নির্মিত উন্মুক্ত মঞ্চে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করা হয়েছে।
পৌরসভার বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট আধুনিক শপিংমল নির্মাণ। পৌরভবনের পাশে নির্মিতব্য এই শপিংমলে লিফট, শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থা ও অন্যান্য আধুনিক সুবিধা থাকবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এসব পরিবর্তনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আনন্দ বাবুর পুল এলাকার সিজানুর রহমান বলেন, অল্প সময়েই দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। আইনুল হক জানান, আগে অনেক সমস্যা থাকলেও এখন ধীরে ধীরে সমাধান হচ্ছে। রাহাত হোসেন বলেন, বড় মাঠের উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো।
পৌর প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, একটি মানসম্মত স্কুল ও কলেজ স্থাপন, শহর সম্প্রসারণ এবং চৌরঙ্গী মোড় থেকে গাছবাড়ি পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, নীলফামারীর উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে এবং অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতেও বড় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন