টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার ভাগবণ্টন ও দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে এক সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার সৈয়দপুর তহশিল অফিসের অফিস সহকারী ছিলেন। গত বুধবার রাতে নিজ বাড়িতে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আমিনুল ইসলামের বাড়ি গোপালপুর উপজেলার চাতুটিয়া গ্রামে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে বড় অঙ্কের আর্থিক সংকটে পড়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।
মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, গোপালপুর অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার সাদেক আরমান তাকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ধার নেওয়া হয়। পরে সেই টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ব্যাংক চেকে সই নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।
নিহতের বাবা ভোলা মিয়া বলেন, অনলাইনে বাজি খেলতে গিয়ে তার ছেলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সাদেক আরমানের কাছে তার দেড় কোটি টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় পাওনাদারদের চাপ ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে তিনি ভেঙে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, নিহত আমিনুল ইসলামের একটি তিন বছরের সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশাহারা অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সাদেক আরমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে নেওয়া সব টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়েছে। ফেসবুকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অগ্রণী ব্যাংক গোপালপুর শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান সোলায়মান কবীর জানান, সাদেক আরমান বৃহস্পতিবার ব্যাংকে উপস্থিত হননি। গোপালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নবাব আলী বলেন, পরিবারকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

