টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নে একটি সেতুর অভাবে অন্তত ৯ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী ও কৃষক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগ চললেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কে ধলেশ্বরী নদীর শাখার ওপর প্রায় পাঁচ বছর আগে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। বর্তমানে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি নড়বড়ে সেই সাঁকোটিই ৯ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে এ স্থান দিয়ে ধলেশ্বরী নদী প্রবাহিত হলেও পরে নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে পূর্বদিকে সরে যায়। ফলে এখানে সরু খালের মতো একটি শাখা নদী সৃষ্টি হয়। নদীর পাড়ে জেগে ওঠা চরে ধীরে ধীরে মানুষের বসতি গড়ে উঠলেও সেতুর অভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়ে গেছে অনুন্নত।
মোকনা ইউনিয়নের লাড়ু গ্রামের এই অংশে নির্মিত সাঁকোটির মাধ্যমে ২ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। পংবাইজোড়া, লাড়ুগ্রাম, দেইল্লা, স্বল্প লাড়ুগ্রাম, চৌহালীপাড়া, পংবড়টিয়া ও ঘুণি গ্রামের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এ পথ ব্যবহার করেন।
বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তখন নৌকায় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় এলাকাবাসীকে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিক্রিতেও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় মো. বিল্লাল মিয়া (৪২) ও মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫) রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, একটি সেতুর অভাবে আমরা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছি। সব এলাকার উন্নয়ন হলেও আমাদের এলাকার উন্নয়ন হয় না। আমরা শুধু একটি সেতুর অভাবে পিছিয়ে আছি। বিগত সরকারের আমলে দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইলেও আমরা বানে ভেসে চলছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজ উদ্দিন খান রাজা বলেন, পাঁচ বছর আগে স্থানীয়ভাবে আমরা এখানে একটি বাঁশের সেতু নির্মাণ করি। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে। ইতোপূর্বে ভোটের জন্য নেতারা এসে কথা দিলেও বাস্তবে কোনো কাজের কাজ হয়নি। তবে ইতিপূর্বে ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রিজ ও রাস্তার উন্নয়ন কাজে বর্তমান সাংসদ রবিউল আউয়াল লাভলু ডিও লেটার দিয়েছেন।
মো. শাহজাহান মিয়া (৫৬) চানপাড়ার বসতি প্রতিবেদককে বলেন, বর্ষা মৌসুমে আমাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। গুরুতর রোগী, প্রসূতিসহ জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া সম্ভব হয় না। এমনকি ভারী বৃষ্টি হলেই খালে পানি জমে যায়, এই সাঁকোটির দু’পাশেই রয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি।
মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম জানান, সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক প্রস্তাবনা ও চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ এখন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন