ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সরকারি রাস্তার ইট তুলে ইউপি সদস্যের বাড়ির বাথরুম

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৬:২৭ এএম

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামে সরকারি রাস্তার ইট তুলে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আয়েশা বেগম ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, গোপালপুর উপজেলা গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা) অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের আওতায় পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০০ মিটার গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়।

স্থানীয় মোড়ল আব্দুল হালিম জানান, পাশের প্যারাজানি বিলে সহস্রাধিক একর জমিতে বোরো ও রোপা আবাদ হয়। কৃষকদের হালচাষ ও মাঠ থেকে ফসল ঘরে তোলার অন্যতম ভরসা এই সড়ক। এলাকাবাসীর দাবির মুখে উপজেলা প্রশাসন সড়কটি সংস্কার করে ইটের সলিং দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম নিজেই এবং কাজের ঠিকাদারি পান তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন। প্রায় দুই মাস আগে দিনের বেলায় রাস্তার ইট তুলে রিকশাভ্যানে করে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে সেই ইট দিয়েই বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণ করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

গ্রামবাসীর ভাষ্য, ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়েছিল রাস্তা পাকা করা হবে এবং ইট খোয়া বানানো হবে। কিন্তু পরে দেখা যায়, সেই ইট ব্যবহার করা হয়েছে ব্যক্তিগত কাজে।

বর্তমানে রাস্তার বিভিন্ন অংশ থেকে ইট তুলে নেওয়ায় বর্ষার পানিতে মাটি ধসে পড়ছে। এতে মাঠ থেকে বোরো ধান ঘরে তুলতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলা সরকারি টেহায় রাস্তা বানাইছে, আবার তারাই রাস্তার ইট তুইলা বাড়িতে গোসলখানা আর পাকা পায়খানা দিছে। কিছু কইতে গেলেই ভয়ভীতি দেখায়। তাই সবাই চুপ আছে।’ গত রোববার অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজের সাইনবোর্ডটি বাথরুমের পাশেই পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্যের স্বামী ও ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন দাবি করেন, ওই অর্থবছরে তিনি ইউনিয়নের চারটি গ্রামীণ সড়কের কাজ পান। কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট উদ্বৃত্ত ছিল। সেই ইট দিয়ে বাড়িতে বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে।

সরকারি প্রকল্পের উদ্বৃত্ত ইট ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন তো কখনো ইট ফেরত চায়নি। এখানে সাংবাদিকদের কী সমস্যা?’

অন্যদিকে ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামের কিছু দুষ্টলোক রাতের আঁধারে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম নির্মাণের প্রশ্নই আসে না।

ইট চুরির বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়নি কেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রাস্তা পুনর্সংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। তাই হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে ভাবা হয়নি।

গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নিজ খরচে ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।