কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা নদীর ওপর প্রস্তাবিত মেগাসেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে চীনের রোড ব্রিজ করপোরেশনের ৫ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। গতকাল শনিবার দুপুরে তারা সদর উপজেলার শিবরাম বাংটুর ঘাট এলাকায় গিয়ে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান ও কারিগরি বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন।
চীনা রোড ব্রিজ করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী জাইয়া সাইয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেনÑ বিজনেস ম্যানেজার ইউ জিগিং, মার্কেটিং ম্যানেজার ওয়াং জিংওয়েই, ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার পেংটাও এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শানতোনো।
পরিদর্শনকালে তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদত আলী, কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিবসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা।
কুড়িগ্রাম এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার শিবরাম বাংটুর ঘাট এলাকায় ধরলা নদীর ওপর প্রায় ১ হাজার ৭৫০ মিটার (১.৭৫ কিলোমিটার) দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ধরলা নদী দ্বারা জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সেতুটি নির্মিত হলে তিন উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্টের অবসান ঘটবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি সোনাহাট স্থলবন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনেও অভূতপূর্ব গতি আসবে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশের সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদত আলী বলেন, চীনা প্রতিনিধিদল প্রাথমিক পরিদর্শনে এসেছেন। আসন্ন ঈদুল আজহার পর একটি বিশেষায়িত ‘স্টাডি টিম’ এসে সেতু নির্মাণের কারিগরি সম্ভাব্যতা ও বিস্তারিত সুবিধা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে। তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন