নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মূল অপরাধীকে এলাকাবাসীর গণপিটুনি দেওয়া দেখে ভয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে তার সহযোগী সোহেল (২০)। গতকাল শনিবার সকালে অভিযুক্ত নিজে ফতুল্লা থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দেয়। আত্মসমর্পণকারী সোহেল ফতুল্লার চরবয়রাবাদী গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে চরবয়রাবাদী গ্রামে সোহেলের সহযোগিতায় তার বন্ধু হিরু (২২) ওই শিশুটিকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত হিরু একই গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। রাতে এই পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত হিরু ও সোহেলের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তখন সোহেল কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও হিরুকে ঘর থেকে ধরে এনে সড়কে ফেলে গণপিটুনি দেয় জনতা। পরে সেই গণপিটুনির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর সেই গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচতেই মূলত সোহেল থানায় আশ্রয় নেয়। আত্মসমর্পণ করার পর সোহেল জানায়, অপরাধী হিসেবে জনগণের হাতের গণপিটুনি খাওয়ার চেয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করাকে সে শ্রেয় মনে করেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই নৃশংস ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে দুইজন জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে গণপিটুনির শিকার মূল অভিযুক্ত হিরুকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর আত্মসমর্পণকারী সহযোগী সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নির্যাতিত শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন