ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সালথায় বাণিজ্যিক আনারস চাষ

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৬:২৯ এএম

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিতে প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বৃহৎ আনারস বাগান। সফল ফলনের আশা নিয়ে তিনি দেখছেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সালথায় এত বড় পরিসরে এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ হচ্ছে। এ উদ্যোগ এলাকায় ফল চাষের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত মিলন ফকির গত বছর শখের বশে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছ লাগান। সেখানে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার পর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নেন। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের প্রায় ৮০ হাজার চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন।

কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির বলেন, ‘ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। এরপর বড় পরিসরে আনারস চাষের পরিকল্পনা করি। চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাসহ এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী বছর ফল সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে প্রায় ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’ তিনি জানান, আনারস বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিপণনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার। উদ্যোগটি সফল হলে এলাকার অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও আনারস চাষে আগ্রহ তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান পরিদর্শনে এসে আনারস চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে চাইছেন।

স্থানীয় কৃষক রফিক মোল্যা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো আনারসের বাণিজ্যিক চাষ দেখিনি। মিলন ভাইয়ের উদ্যোগ দেখে ভালো লাগছে। তিনি সফল হলে আমরাও ভবিষ্যতে আনারস চাষের কথা ভাবব।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘সালথায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলে লাভজনক ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, এই উদ্যোগ সফল হলে আরও অনেক কৃষক ফল চাষে উৎসাহিত হবেন।’