যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুরে ‘অস্তিত্বহীন’ এস কে অটো রাইস মিলে চাল উৎপাদনের জন্য সরকারি ধান বরাদ্দ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে এই সরকারি বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে দাবি করে স্থানীয় কয়েকজন মিল মালিক যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ অটো রাইস মিল পরিচালনার জন্য পারবয়েলিং ইউনিট, ড্রায়ার, বয়লার, সাইলো ও গুদামঘরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ‘এস কে অটো রাইস মিল ইউনিট-২’-এর ক্ষেত্রে এসব সুবিধার কোনো অস্তিত্বই নেই।
অভিযোগকারী ইনতার আলী তার আবেদনে উল্লেখ করেন, এস কে অটো রাইস মিল প্রতিষ্ঠার সময় এর পাক্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৮৩২ দশমিক ১৮ মেট্রিক টন। পরে একই অবকাঠামো বহাল রেখে তা প্রথমে ১ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন এবং পরবর্তীতে ২ হাজার ১০০ মেট্রিক টনে উন্নীত দেখানো হয়। বাস্তবে অবকাঠামোগত কোনো উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ছাড়াই অলৌকিকভাবে এই উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে একটি আতপ মিলের লাইসেন্স নিয়ে উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন দেখানো হয়। এছাড়া এস কে অটো রাইস মিলের সঙ্গে একটি হাস্কিং মিল দেখানো হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় চাতাল, হাঁড়ি, শুলার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব নেই। নতুন এই মিলের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রেও কোনো যথাযথ সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিল মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বাস্তবে মিল নেই বা উৎপাদন সক্ষমতা নেই, তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অবকাঠামোহীন মিলের বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এস কে অটো রাইস মিলের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আমির আলী বলেন, এস কে অটো রাইস মিল-২-এর কার্যক্রম খুব শিগগিরই চালু হবে। বর্তমানে সেখানে নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কীভাবে বরাদ্দ পেলেনÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা জেলা খাদ্য অফিসে আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই বরাদ্দ পেয়েছি।’
অন্যদিকে, যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান বলেন, এস কে অটো রাইস মিল মূলত আতপ চাল উৎপাদন করে। তবে চলতি মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটি সিদ্ধ চাল উৎপাদনের জন্য আবেদন করেছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে তাদের সিদ্ধ চাল উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

