ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

ঈশ্বরগঞ্জে তরুণ খুন

তদন্ত ছাড়াই বিএনপি নেতারা আসামি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৬:৪৭ এএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ফুচকার অর্ডার দেওয়া নিয়ে দুই গ্রামের তরুণদের সংঘাতে শিপন মিয়া (১৮) নামের এক তরুণ নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকার পরও মামলায় উচাখিলা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন মাসুদসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে দায়ের করা এই মামলা নিয়ে উপজেলাজুড়ে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর গতকাল শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলায় জাতীয় পার্টির নেতা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলে উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর বটতলা গ্রামের তুহিন মিয়া নামের এক তরুণ তার বোনকে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ঘুরতে যান। সেখানে একটি দোকানে ফুচকার অর্ডার দেওয়াকে কেন্দ্র করে চর আলগী গ্রামের কয়েকজন তরুণের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে গত শনিবার রাতে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনা ঘটলে মরিচারচর গ্রামের বাসিন্দারা দেশি অস্ত্র নিয়ে চরআলগী গ্রামে হামলা চালায়। এতে ১৫ থেকে ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও বহু খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পেটে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মরিচারচর গ্রামের শিপন মিয়া গত সোমবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোয় সংঘটিত এই সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিল, তা এলাকার সবার জানা। কিন্তু নিহত শিপনের বাবা মো. রমজান আলী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ কোনো প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মামলাটি নথিভুক্ত করে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং স্থানীয় বিএনপিকে কোণঠাসা করতে একটি মহলের ইন্ধনে এজাহারে জয়নাল আবেদীন মাসুদসহ নিরপরাধ নেতাদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি বলেন, কারা এই হত্যাকা-ে জড়িত তা সবাই দেখেছে। মামলার এজাহারে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের দলের নেতাদের আসামি করা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও নিরপরাধদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

এর আগে চরআলগী গ্রামে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় গত ২ জুন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. শফিকুল ইসলামসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আরমান, আরাফাত ও ইমন নামে তিন ভাইকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. রবিউল আজম বলেন, বাদীর দেওয়া এজাহার অনুযায়ী মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে মামলায় যদি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি আসামি হয়ে থাকেন, তদন্তে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বাদ দেওয়া হবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।