ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

গোয়ালন্দ-পোড়াদহ রুট

বন্ধ স্টেশন, ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ

ফয়সাল আহমেদ, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৬:৪৮ এএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে রেলযোগাযোগ চরম সংকটের মুখে পড়েছে। উপজেলার দুটি রেলস্টেশনের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী গোয়ালন্দ বাজার স্টেশনটি প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। অন্যদিকে দৌলতদিয়ায় অবস্থিত গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশন থেকে একে একে আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন প্রত্যাহার করায় বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে মাত্র একটি লোকাল (শাটল) ট্রেন দিয়ে কোনোমতে পুরো রুট টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, এক সময় গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশন থেকে প্রতিদিন দুটি আন্তঃনগর, একটি মেইলসহ মোট পাঁচটি ট্রেন চলাচল করত। তবে পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রীর চাপ কমার অজুহাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে এসব ট্রেন প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে বর্তমানে বেসরকারিভাবে পরিচালিত গোয়ালন্দ ঘাট-পোড়াদহ রুটের একটিমাত্র শাটল ট্রেনই ভরসা যাত্রীদের।

এদিকে গোয়ালন্দ বাজার স্টেশন বন্ধ থাকায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রেললাইন কার্যত অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। লাইনে নেই খোয়া বা পাথর, নাট-বল্টু ঢিলা, কাঠের স্লিপারও নষ্ট হয়ে গেছে। ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইন দুলে ওঠে, দেখা দেয় লাইনচ্যুতির আশঙ্কা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে এই লাইনে একাধিকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে, তবু কর্তৃপক্ষের লাইন মেরামতো কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না।

এদিকে ট্রেন সংকটের কারণে সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও হকাররা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ট্রেন না পেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে সড়কপথে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে বেড়েছে খরচ, কমেছে আয়।

গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশনের হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, আগে দিনে পাঁচ-ছয়টি ট্রেন আসা-যাওয়া করায় ভালো বেচাকেনা হতো, এখন একটিমাত্র ট্রেন থাকায় তাদের বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে। ফলে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে।

গোয়ালন্দ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক জানান, গোয়ালন্দ বাজার স্টেশন বন্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ক্রসিংটি গেটম্যান ছাড়া অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, যা বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

গোয়ালন্দ বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি মো. সিদ্দিক মিয়া বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া লোকাল ও প্রত্যাহার করা আন্তঃনগর-মেইল ট্রেনগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনা জরুরি। নইলে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

স্থানীয়দের দাবি, দেশের অন্যান্য স্থানের মতো গোয়ালন্দ বাজার থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রেললাইন সংস্কার, বন্ধ স্টেশন চালু এবং প্রয়োজনীয় ট্রেন পুনর্বহাল করা না হলে এই ঐতিহ্যবাহী রেলপথ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে। সেই সঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তিও বাড়বে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশনের মাস্টার মোসলেম উদ্দিন জানান, একসময় চলাচলকারী পাঁচটি ট্রেনের মধ্যে চারটি বন্ধ বা প্রত্যাহার হওয়ায় স্টেশনটি এখন প্রকট ট্রেন সংকটে রয়েছে। বর্তমানে একমাত্র শাটল ট্রেন দিয়েই কোনো রকমে কার্যক্রম চলছে।