ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

চায়না জালে মাছের হাহাকার

ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৩:৫৯ এএম

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন নদী ও বিলে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি বা রিং জালের অবাধ ব্যবহারে দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। প্রজনন মৌসুমে এসব জালের ব্যবহার বাড়ায় মাছের বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বংশাই, ঝিনাই ও বৈরান নদীসহ হামিল বিল, বিলদুবলাইসহ বিভিন্ন জলাশয়ে দীর্ঘদিন ধরে চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ শিকার চলছে। তবে কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না থাকায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বৈরান নদীর যদুনাথপুর এলাকা, হামিল বিল ও বিলদুবলাইসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জেলে ও সাধারণ মানুষ এ ধরনের জাল ব্যবহার করে মাছ ধরছেন। বর্ষা মৌসুমে এর ব্যবহার আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে উপজেলার যদুনাথপুর এলাকার বংশাই নদী, পাইস্কা এলাকার বৈরান নদী, হামিল বিল ও বিলদুবলাইসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, নদী ও বিলে অসংখ্য রিং জাল পেতে মাছ শিকার করছে জেলেরা।

মৎস্যসম্পদ সংশ্লিষ্টরা জানান, চায়না দুয়ারি জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এতে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ, মাছের পোনা, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যায়।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় এসব নদী-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। অনেক জেলে নদীর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু নিষিদ্ধ জালের কারণে বর্তমানে মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ ধরা জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একজন স্থানীয় জেলে বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরছেন। এতে আমাদের সাধারণ জালেও এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।’

জানা গেছে, ধনবাড়ী উপজেলার বংশাই, বৈরান ও ঝিনাই নদীর ওপর নির্ভরশীল রয়েছে শতাধিক জেলে পরিবার। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে চায়না দুয়ারি জাল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে বলেন, ‘নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি হামিল বিল ও বিলদুবলাই এলাকায় মাইকিংসহ অভিযান চালানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্য নদী এলাকায় অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সঠিক তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।