মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় সোহেল মুন্সী (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকা-ের পর তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। গত বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল মুন্সী ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল মুন্সীর ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতে খাবার শেষে সোহেল মুন্সী তার বসতবাড়ির পূর্ব পাশের একটি ঘরে একা ঘুমাতে যান। সম্প্রতি সন্তান জন্ম হওয়ায় তার স্ত্রী নূপুর বেগম শাশুড়ির সঙ্গে পাশের ঘরে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ বাড়ির উঠানে শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। বাইরে বের হয়ে তারা দেখতে পান, সোহেলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। একই সময় উঠানের মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সোহেলকে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সোহেলকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির উঠানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকা-ের পর দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সোহেল মুন্সী সিডারচর এলাকা থেকে ভাঙারি মালামাল সংগ্রহ করে ব্যবসা করতেন। তিনি ২০২২ সালে বিদেশি মদসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
লৌহজং থানার ওসি মো. বোরহান-উল-ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।’

