মাত্র এক একর জমির অভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এফএসটিপি) বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরসভার হাজারো বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় কমলগঞ্জ পৌরসভায় পানি ও স্যানিটেশন খাতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড জলাধার নির্মাণ, ৩৭ কিলোমিটার পানি সরবরাহ পাইপলাইন স্থাপন, তিনটি উৎপাদন নলকূপ স্থাপন, প্রায় ৩ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ এবং ৭৫০টি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপন।
এ ছাড়া মানব বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য পৌরসভাকে দুটি আধুনিক ভ্যাকুয়াম ট্রাকও দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার পরও বর্জ্য শোধনের জন্য প্রয়োজনীয় এফএসটিপি স্থাপন না হওয়ায় পুরো স্যানিটেশন ব্যবস্থাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন এক একর জমি। কিন্তু এখন পর্যন্ত উপযুক্ত জমি পাওয়া যায়নি। ফলে সেপটিক ট্যাংক ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে সংগ্রহ করা মানব বর্জ্য পরিবেশসম্মত উপায়ে শোধনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক এলাকায় সেপটিক ট্যাংক থেকে উত্তোলন করা বর্জ্য যথাযথ শোধন ছাড়াই বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়। এতে মাটি, পানি ও পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। এফএসটিপি চালু হলে ভ্যাকুয়াম ট্রাকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা বর্জ্য শোধনাগারে নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উৎপাদিত কঠিন বর্জ্য জৈব সারে রূপান্তর করা যাবে।
কমলগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার এ প্রকল্প শুধু এক একর জমির অভাবে আটকে আছে। জমি পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ‘বর্জ্য শোধনাগার থেকে উৎপাদিত জীবাণুমুক্ত জৈব সার কৃষির জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করবে এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।’
কমলগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত এক একর জমি প্রয়োজন। জমি পাওয়া গেলে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, দ্রুত জমি বরাদ্দ বা অধিগ্রহণ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা জরুরি। তাদের মতে, ধলাই নদীর তীরবর্তী সরকারি খাস জমি ব্যবহার করা গেলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। তারা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে পৌরসভার স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আসবে আধুনিকতা। পাশাপাশি কৃষি খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কমলগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করে পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

